বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে বিশ্বব্যাপী অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রতিবেদন অনুসারে, প্রায় ৪০% রক্ত, অন্ত্র, মূত্রনালী এবং প্রজনন তন্ত্রের সংক্রমণ সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধী।
এই সংকট নতুন নয়। ২০১৭ সালে, ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছিল যে বিশ্ব অ্যান্টিবায়োটিকের অভাবে পড়ছে। তাদের প্রতিবেদনে দেখা যায় যে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারে স্থবিরতা রয়েছে। বেশিরভাগ বিদ্যমান অ্যান্টিবায়োটিক হল পুরানো ওষুধের রাসায়নিক সংস্করণ, যা অস্থায়ী স্বস্তি দেয় কিন্তু স্থায়ী সমাধান নয়।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে ২০৫০ সালের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণ ৭০% বৃদ্ধি পাবে, যা দশকের পর দশক ধরে চিকিৎসা ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতির বিপরীতে যাবে। এই সংক্রমণের মধ্যে রয়েছে ইকোলাই এবং মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস, যা মূত্রনালীর সংক্রমণ এবং যক্ষ্মার কারণ।
ডব্লিউএইচও বর্তমানে ৫১টি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বিকাশের তালিকাভুক্ত করেছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই সংখ্যা খুব কম, এবং নতুন ওষুধ আবিষ্কারের জন্য আরও বেশি গবেষণা প্রয়োজন।
এই সংকটের মোকাবেলায়, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার সীমিত করা এবং নতুন ওষুধ আবিষ্কারের জন্য গবেষণা চালানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন যে সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা বলছেন যে সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং রোগীদের সচেতন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অবশেষে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই সংকটের মোকাবেলায় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তারা বলছেন যে সরকার, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এবং জনসাধারণকে একসাথে কাজ করতে হবে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণ প্রতিরোধে।



