বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিস্তারের সাথে তাল মিলিয়ে কতটা প্রস্তুত তা নিয়ে গত শনিবার এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বক্তারা বলেন, এআই চাকরির বাজারে প্রবেশের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিভিত্তিক (আইসিটি) শিক্ষার সম্প্রসারণ প্রয়োজন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষে আইসিটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষেও বিশেষায়িত আইসিটি কোর্স প্রচলনের চিন্তা-ভাবনা আছে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, এআই আমাদের জন্য হুমকি নয়, সুযোগ। তবে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে না পারলে এই সুযোগ অন্য দেশ নিয়ে যাবে। চাকরি হারিয়ে যাওয়ার ভয় নয়, বরং দক্ষতা হারানোর ভয় সবচেয়ে বড়। যিনি আইসিটি জানেন না, তিনিই প্রকৃত ঝুঁকিতে আছেন।
সেমিনারে বেশ কয়েকটি সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। সেগুলো হলো—ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আইসিটি সিলেবাসের সমন্বয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলোতে এআই বা ডেটা সাইন্সের মতো বিশেষায়িত বিষয়ে অনার্স চালু ও শিক্ষক পদ সৃষ্টি, ভর্তি পরীক্ষায় আইসিটি বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা।
এখনই প্রস্তুতি না নিলে আগামী দিনে বাংলাদেশ এআই-এর অগ্রযাত্রার ‘ট্রেন মিস’ করবে এবং সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও সতর্ক করেন আলোচকরা। সেমিনারের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরিবাজারে এআই-ভিত্তিক মানবসম্পদ তৈরির জরুরি প্রয়োজনে সবাই একমত হন।
সুতরাং, আপনি যদি একজন শিক্ষার্থী হন, তাহলে আপনাকে এআই ও আইসিটি সম্পর্কে জানতে হবে এবং নিজেকে দক্ষ করে তুলতে হবে। আপনি যদি একজন শিক্ষক হন, তাহলে আপনাকে আপনার ছাত্রদের এআই ও আইসিটি সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে। আমরা সবাইকে এআই ও আইসিটি সম্পর্কে জানতে এবং নিজেকে দক্ষ করে তুলতে উৎসাহিত করি।



