শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। তিনি বলেছেন, যারা রাজনীতি করতে চান, তাদের রাজনীতিতেই যুক্ত হওয়া উচিত; কিন্তু শ্রেণিকক্ষের নিরপেক্ষতা অবশ্যই অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
ফরিদপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে শিক্ষক-অংশীজন সংলাপ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শতাধিক শিক্ষক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল ও অবসর সুবিধা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, অতীতে এসব তহবিল পরিচালনায় মারাত্মক অব্যবস্থাপনার কারণে উদ্বেগজনক সংকট তৈরি হয়েছে। ডায়ালাইসিস বা ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত শিক্ষকরা বছরের পর বছর তাদের প্রাপ্য অর্থ না পাওয়াকে তিনি ‘অমানবিক’ বলে অভিহিত করেন।
সি আর আবরার জানান, এই সমস্যার সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, হিসাবপত্র হালনাগাদ এবং সরকারের অতিরিক্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই বকেয়া অর্থের নিষ্পত্তি শুরু হবে।
শিক্ষকদের পদোন্নতি ও মর্যাদা প্রসঙ্গে সি আর আবরার উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহে কলেজ পর্যায়ে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি শিক্ষককে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি বলেন, এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং এটি শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার। ভবিষ্যতেও পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্থবিরতা দূর করা হবে।
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রকৃত নম্বর প্রদানের নীতি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন অসম্ভব। তাই নম্বর বাড়িয়ে পাসের হার দেখানোর সংস্কৃতি আর ফিরে আসবে না।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, জাতি আজ ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বিচার, সংস্কার ও স্বচ্ছ নির্বাচন—এই তিন অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নাগরিকের অধিকার এবং স্বাধীনতা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরারের এই মন্তব্যগুলো শিক্ষা খাতে এক নতুন দিশা নির্দেশ করছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই মন্তব্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা খাতে সংস্কার আনতে এই মন্তব্যগুলো এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ হলো, তারা শিক্ষার গুরুত্ব বুঝুক এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুক। শিক্ষকদের জন্য পরামর্শ হলো, তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক হোক এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করুক। শিক্ষা খাতে সংস্কার আনতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।



