মঙ্গলবার, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু করা পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের চতুর্থ বর্ষপূর্তিতে শহীদদের স্মরণে সরকারি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরে সমাবেশের মাধ্যমে চার বছর ধরে নিহত নাগরিক ও সৈন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এই অনুষ্ঠানগুলোতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাশিয়ান আক্রমণ প্রতিহত করার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে, যদিও উভয় পক্ষের ক্ষতি বাড়ছে এবং নাগরিকরা প্রায় প্রতিদিন বোমা হামলার মুখোমুখি হচ্ছে।
মঙ্গলবারের সমাবেশে রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি “ইউক্রেন এই যুদ্ধ বেছে নেয়নি” বলে উল্লেখ করেন এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য করা সংগ্রামকে জোর দিয়ে বলেন, “আমরা আমাদের রাষ্ট্রত্ব হারাইনি”।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার যুদ্ধের লক্ষ্য এখনো সম্পূর্ণ অর্জিত হয়নি বলে স্বীকার করা হয় এবং ইউক্রেনের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়।
মাস্কভের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ রাশিয়ার বারবারের মতামত পুনরায় বলেন যে, পশ্চিমের সমর্থন ইউক্রেনের সংঘাতকে বিস্তৃত করে রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থায় পরিণত করেছে।
বর্তমানে রাশিয়া প্রায় ২০ শতাংশ ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড দখল করে আছে, তবে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী ডনবাসের পুরো পূর্বাঞ্চল রাশিয়ান দখল থেকে রোধ করতে সক্ষম হয়েছে।
সমাবেশে জেলেনস্কি ইউরোপের কিছু প্রধান সমর্থকের সঙ্গে ছিলেন, যার মধ্যে ফিনল্যান্ডের অ্যালেক্সান্ডার স্টুব, সুইডেনের উলফ ক্রিস্টারসন এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়েন অন্তর্ভুক্ত।
সকাল ১০ টায় এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়, যা কিয়েভের রাস্তায় এক ধরনের একাত্মতার অনুভূতি তৈরি করে। শহরের মায়দান স্কোয়ারে বহু পতাকা ও ব্যানার শোয়ানো হয়, যেখানে মানুষ নীরবভাবে শোক প্রকাশ করে।
বুচা শহরে, যা ২০২২ সালে রাশিয়ান আক্রমণের সময় সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার সাক্ষী ছিল, মানুষ ক্রমাগত ফুল রাখে কালো গ্রানাইট সমাধিতে। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি ভ্যালেন্টিন বলেন, “যুদ্ধ অনেক প্রাণ নিয়েছে, আমাদের জন্য এটি খুব বেশি” এবং যোগ করেন, “এতদিন টিকবে এমন কেউ কল্পনা করেনি”।
যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের জনগণ দৈনন্দিন বোমা হামলার ঝুঁকিতে বসবাস করছে, আর উভয় পক্ষের সামরিক ক্ষতি ক্রমাগত বাড়ছে। শোয়ানো শোকের অনুষ্ঠানগুলো দেশের আত্মবিশ্বাস জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করে।



