২০২৩ সালের শুরুর দিকে আইভোরির তায় ন্যাশনাল পার্কে কয়েক ডজন স্যুটি মাঙ্গাবি (Cercocebus atys) গোষ্ঠীর মধ্যে মনকপক্স রোগের বিস্তার রেকর্ড করা হয়। গোষ্ঠীর প্রায় তৃতীয়াংশে ত্বকে দাগ ও অন্যান্য লক্ষণ দেখা যায়, এবং চারটি নবজাতক বানর মৃত্যুবরণ করে।
বন্যপ্রাণী সমীক্ষা থেকে জানা যায় যে, এই রোগের সূচনা ঘটে যখন গোষ্ঠীর একটি বানর অগ্নি-ফুটে রোপ স্যাকল (Funisciurus pyrropus) নামের এক প্রজাতির কাঠবিড়ালি খায়। গবেষকরা ফেব্রুয়ারি ১১ তারিখে *Nature* জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই সংযোগটি উল্লেখ করেছেন।
এই ফলাফল প্রথমবারের মতো প্রমাণ করে যে, মনকপক্স ভাইরাস বন্য পরিবেশে এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতিতে সরাসরি ছড়াতে পারে। মানব রোগের ক্ষেত্রে, প্রাণী থেকে মানুষের দিকে ভাইরাসের স্থানান্তরই প্রায়শই সংক্রমণের মূল কারণ। তাই কোন প্রাণীই ভাইরাসের ধারক তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, যেসব মানুষ অগ্নি-ফুটে রোপ স্যাকল বা অনুরূপ কাঠবিড়ালি ধরতে, পরিবহন করতে বা মাংস প্রস্তুত করতে জড়িত, তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) ব্যবহার করা এবং কাজের পর হাত ধোয়া উচিত। এই ধরনের সতর্কতা ভাইরাসের মানব সংক্রমণ রোধে সহায়তা করতে পারে।
তায় ন্যাশনাল পার্কে ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন প্রাইমেট গোষ্ঠীর মধ্যে মনকপক্সের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। ২০১২-এ একটি সংক্রামিত স্যুটি মাঙ্গাবি মৃত পাওয়া যায়, আর ২০১৭ ও ২০১৮ সালে তিনটি আলাদা চিম্পাঞ্জি (Pan troglodytes) গোষ্ঠী রোগে আক্রান্ত হয়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাইমেটগুলো স্বাভাবিকভাবে ভাইরাস বহন করে না; তারা কেবলমাত্র রোগের বিস্তার ঘটার সময়ই সংক্রমিত হয়।
প্রাণী থেকে প্রাণীতে সংক্রমণের মূল উৎস নির্ধারণের জন্য বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে পার্কের বিভিন্ন স্তন্যপায়ী ও অস্থি-শ্রেণীর প্রাণী পরীক্ষা করে আসছেন। বিশেষ করে, রোপ স্যাকল ও অন্যান্য আফ্রিকান ইঁদুরের প্রজাতিগুলোর উপর গবেষণা বাড়ানো হয়েছে, কারণ এই গোষ্ঠীগুলোতে ভাইরাসের উপস্থিতি সন্দেহজনকভাবে বেশি।
এই গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে রোগের পূর্বাভাস ও নিয়ন্ত্রণে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে। যদি নির্দিষ্ট প্রাণীকে সংক্রমণের মূল উৎস হিসেবে নিশ্চিত করা যায়, তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাসকারী লোকজনের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক স্বাস্থ্যবিধি ও শিক্ষা কর্মসূচি চালু করা সম্ভব হবে।
বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মতে, প্রাকৃতিক পরিবেশে ভাইরাসের আন্তঃপ্রজাতি স্থানান্তর পর্যবেক্ষণ করা রোগের উদ্ভব ও বিস্তারকে বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ। তায় ন্যাশনাল পার্কে এই ঘটনা প্রথমবারের মতো স্পষ্টভাবে দেখায় যে, বন্য প্রাণীর খাদ্যাভ্যাস ও মানব কার্যকলাপের সংযোগে রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অবশেষে, গবেষকরা জোর দিয়ে বলছেন যে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও মানব স্বাস্থ্যের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতা করে সঠিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এমন রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।
আপনার আশেপাশে যদি এমন কোনো প্রাণী থাকে যার সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শ হয়, তাহলে সঠিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কি আপনার এলাকায় বন্য প্রাণীর সঙ্গে সংস্পর্শে সতর্কতা অবলম্বন করছেন?



