মঙ্গলবার রাতের দিকে অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিরের দপ্তর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায় যে, ফেসবুকে তার নামে তৈরি ‘মশাল মিছিল’ শিরোনামের ইভেন্টের সঙ্গে কোনো সংযোগ নেই এবং তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রমনা জোনের পুলিশের ডিসি মাসুদ কর্তৃক ঢাবি ছাত্র নিপীড়নের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে মশাল মিছিল’ শিরোনামের একটি ইভেন্ট তৈরি করা হয়েছিল, যা কোনো বাস্তব ভিত্তি ছাড়া প্রচারিত হয়েছে।
ইভেন্টটি মঙ্গলবার বিকাল থেকে ফেসবুকে দেখা যায়, যেখানে শিরোনাম ও বিবরণে জোনায়েদ সাকিরের নাম ব্যবহার করে একটি মশাল মিছিলের আয়োজনের দাবি করা হয়েছিল। পোস্টটি প্রকাশের পরই অনেক ব্যবহারকারী তা শেয়ার করে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে, তাদের ব্যক্তিগত প্রোফাইলে ইভেন্টের লিঙ্ক পোস্ট করে এবং মন্তব্যে সমর্থন জানায়। তবে একই রাতের মধ্যে পোস্টটি হঠাৎ করে মুছে যায় এবং আর পাওয়া যায় না।
অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানায় যে, উল্লিখিত ইভেন্টের সঙ্গে জোনায়েদ সাকিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দপ্তর গুজব ও ভিত্তিহীন তথ্যের প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে, জনগণকে তথ্য যাচাই করে সতর্ক থাকার আহ্বান জানায়। এছাড়া, দপ্তর উল্লেখ করে যে, এমন ধরনের মিথ্যা প্রচার রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করতে পারে এবং তা দ্রুত থামাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেবে।
জোনায়েদ সাকির গুজব সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করার পর, সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ থেকে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য হন এবং নির্বাচনের পর অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে নিযুক্ত হন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গুজব সংহতি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং পরে সংসদে প্রবেশের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে, যা তাকে দেশের আর্থিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেয়।
ইভেন্টের শিরোনামে উল্লেখিত ‘ঢাবি ছাত্র নিপীড়নের ঘটনা’ এবং ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি’ বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত নয় বলে দপ্তর জোর দেয়। যদিও সংশ্লিষ্ট ঘটনা সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে, তবু তা কোনোভাবে জোনায়েদ সাকিরের নেতৃত্বে মশাল মিছিলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি। দপ্তর এই বিষয়টি স্পষ্ট করে, ইভেন্টের সৃষ্টিকর্তা ও অংশগ্রহণকারীদের ভুল ধারণা দূর করতে চায়।
এই ধরনের ভিত্তিহীন ইভেন্টের প্রভাব রাজনৈতিক পরিবেশে অনিচ্ছাকৃত উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যখন তা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি সামাজিক মাধ্যমের নজরদারি বাড়িয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই করার ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, বিরোধী দল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনার মাধ্যমে তথ্যের গুণগত মান ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অবশেষে, দপ্তর পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, জোনায়েদ সাকিরের সঙ্গে কোনো সংযোগ নেই এবং জনগণকে গুজবের শিকার না হয়ে তথ্যের উৎস যাচাই করে সতর্ক থাকতে হবে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ভিত্তিহীন প্রচার রোধে সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যাতে জনমতকে প্রভাবিত করা অবৈধ প্রচার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।



