23.2 C
Dhaka
Wednesday, February 25, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি নেতাদের সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক নিযুক্তি স্থানীয় শাসনকে দুর্বল করবে, আইপিডি দাবি

বিএনপি নেতাদের সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক নিযুক্তি স্থানীয় শাসনকে দুর্বল করবে, আইপিডি দাবি

ইন্সটিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঢাকা ও অন্যান্য পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের প্রশাসক হিসেবে নিযুক্তি স্থানীয় শাসনের স্বতন্ত্রতা ও নাগরিক সেবাকে ক্ষুণ্ণ করবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বশীল স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে, এটাই সংস্থার মূল উদ্বেগ।

সেই দিনই ছয়টি সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসকরা শপথ গ্রহণ করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটির আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটির শফিকুল ইসলাম খান, খুলনা সিটির নজরুল ইসলাম মনজু, সিলেট সিটির আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটির সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটির শওকত হোসেন সরকার এই পদে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্বে আসেন।

সরকারের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই প্রশাসকগণ কর্পোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী কোনো আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই পদগুলোতে বিএনপি দলের এই ছয়জন নেতাকে নিয়োগ করা হয়েছে।

আইপিডি এই নিয়োগকে একধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে। সংস্থা উল্লেখ করে, সরকারদলীয় এই ধরনের নিয়োগ স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের স্বাতন্ত্র্য ও জবাবদিহিতা হ্রাসের দিকে নিয়ে যাবে এবং নতুন সরকারের জন্য তা বিব্রতকর প্রমাণিত হতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর, বহু মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর দেশ ত্যাগ করেন। এই ঘটনার পরপরই অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পদচ্যুতি ঘটায়।

এই পদচ্যুতির ফলে, ইউনিয়ন পরিষদ ব্যতীত বাকি সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এখন প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নাগরিক সেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

আইপিডি তীব্রভাবে জোর দিয়ে বলছে, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের দ্রুত নির্বাচন না করা পর্যন্ত বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকবে। সংস্থা উল্লেখ করে, অন্তর্বর্তী সরকার পূর্বে স্থানীয় নির্বাচন না করে জনসাধারণের কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছে, যা এখনো সমাধান হয়নি।

প্রশাসক নিয়োগের ধারাবাহিকতা স্থানীয় শাসনের অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত করবে, ফলে নাগরিকদের মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। আইপিডি দাবি করে, দ্রুত নির্বাচন না হলে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ধরনের নিয়োগ ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকারকে কেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংঘর্ষের নতুন রূপ দিতে পারে। নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের অভাব ও প্রশাসক-নিয়োগের প্রাধান্য স্থানীয় স্তরে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বাড়িয়ে তুলবে, যা পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

সারসংক্ষেপে, আইপিডি সরকারের এই পদক্ষেপকে স্থানীয় শাসনের স্বাতন্ত্র্য ও কার্যকারিতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে এবং দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান দাবি করছে। ভবিষ্যতে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে অকার্যকর অবস্থায় রয়ে যাবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments