23.2 C
Dhaka
Wednesday, February 25, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজাতীয় নাগরিক দলের মুখপাত্র ঢাকা দক্ষিণ মেয়র প্রার্থী সম্ভাবনা ও প্রশাসক নিয়োগের...

জাতীয় নাগরিক দলের মুখপাত্র ঢাকা দক্ষিণ মেয়র প্রার্থী সম্ভাবনা ও প্রশাসক নিয়োগের ব্যাখ্যা

২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় সাতটায়, বাংলামোটরের জাতীয় নাগরিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সেখানে দলের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, দল প্রাথমিকভাবে তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নামানোর কথা বিবেচনা করেছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।

আসিফের মতে, এই প্রস্তাবটি দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনার ফল, এবং প্রার্থী নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনও চলমান। তিনি উল্লেখ করেন, মেয়র পদে নামানোর আগে পার্টির উচ্চতর স্তরের অনুমোদন প্রয়োজন। তাই এখন পর্যন্ত এটি কেবল একটি সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা রয়েছে।

সম্মেলনে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ছয়টি সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দ্রুত নিয়োগের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই নিয়োগগুলো পূর্বে কোনো আইনগত ভিত্তি ছাড়াই করা হয়নি, তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে interim সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়। এই প্রশাসক নিয়োগের পেছনে মূল কারণ ছিল, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মেয়র পদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি।

আসিফ ব্যাখ্যা করেন, interim সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বেশ কিছু মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ বা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময়ে সরকার একটি নতুন বিধান প্রণয়ন করে, যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রশাসক নিযুক্ত করা সম্ভব হয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই বিধানটি শুধুমাত্র একটিই সিটি কর্পোরেশনে ব্যবহার করা হয়েছে, যদিও একই ধরনের প্রয়োজন বহু জায়গায় দেখা গিয়েছিল।

বহু সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ শূন্য থাকায়, interim সরকারকে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সেবা প্রদান চালিয়ে যেতে হয়। তবে আসিফের মতে, এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং নিয়োগের মেয়াদ স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু নিয়োগ আদেশে এমন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে প্রশাসক অনির্দিষ্টকালের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।

দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পরিবর্তে প্রাইস পোস্টিং বা নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের প্রশাসক পদে নিয়োগের প্রবণতা দেখা গেছে। এই ধরনের পদবিন্যাসের ফলে স্থানীয় সরকারের স্বায়ত্তশাসন ও জনসেবা মান হ্রাস পেয়েছে। আসিফ উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়া স্থানীয় নির্বাচনের মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করে।

জাতীয় নাগরিক দলের মুখপাত্র জানান, স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলো প্রায় এক বছর ও অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে নির্বাচিত প্রতিনিধিহীন অবস্থায় রয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতা নাগরিকদের মৌলিক সেবা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করেছে। ফলে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নগর পরিষেবা ইত্যাদি ক্ষেত্রে নাগরিকদের অসুবিধা বেড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি তীব্র হয়েছে। আসিফ উল্লেখ করেন, যদিও সরকার স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, তবে স্পষ্ট কোনো সময়সূচি বা পরিকল্পনা এখনো প্রকাশিত হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার শীঘ্রই নির্বাচনের রূপরেখা প্রকাশ করে নাগরিকদের আশ্বাস দেবে।

প্রশাসক নিয়োগের স্বচ্ছতা ও মেয়াদ সংক্রান্ত বিষয়েও দল স্পষ্টতা দাবি করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান নিয়োগ আদেশে মেয়াদ উল্লেখ না থাকায় প্রশাসকদের কাজের স্থায়িত্ব অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কিছু আদেশে এমন শব্দ রয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে প্রশাসক অনন্তকাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এই ধরনের অনিশ্চয়তা সেবা গুণমানকে প্রভাবিত করতে পারে।

আসিফের মতে, সরকার যদি প্রশাসক নিয়োগের ভিত্তিতে চুক্তি বা শর্তাবলী প্রকাশ না করে, তবে তা স্বচ্ছতার অভাবের সূচক। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো সরকারি চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের নথি প্রকাশ না হওয়ায় জনসাধারণের মধ্যে সন্দেহ বাড়ছে। তাই, ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট শর্তাবলী ও মেয়াদ নির্ধারণ করা জরুরি।

জাতীয় নাগরিক দল এইসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছে। দলটি দাবি করে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হলে নাগরিক সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হবে। এছাড়া, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপস্থিতি স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা বাড়াবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি জাতীয় নাগরিক দল ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে প্রার্থী উপস্থাপন করে, তবে তা শহরের নির্বাচনী গতিবিদ্যায় নতুন দিক যোগ করতে পারে। বিশেষ করে, প্রশাসক নিয়োগের বিরোধপূর্ণ প্রেক্ষাপটে একটি নির্বাচিত মেয়রের উপস্থিতি নাগরিকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে। দলটি এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে তার প্রভাব বাড়ানোর পরিকল্পনা করতে পারে।

দলীয় মুখপাত্রের মন্তব্যের পর, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও স্থানীয় নির্বাচন ও প্রশাসক নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে নিজেদের অবস্থান প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষয়গুলো পরবর্তী সপ্তাহে পার্টি নেতাদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হতে পারে। ফলে, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে প্রার্থী নির্ধারণের প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, জাতীয় নাগরিক দলের মুখপাত্র ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী সম্ভাবনা, প্রশাসক নিয়োগের পটভূমি ও স্থানীয় নির্বাচন দাবির বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি সরকারের কাছ থেকে দ্রুত এবং স্বচ্ছ পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে শেষ করেন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments