গুগল ল্যাবসের নতুন ঘোষণায় জানানো হয়েছে যে জেনারেটিভ এআই সঙ্গীত টুল ProducerAI এখন গুগলের গবেষণা ও উন্নয়ন প্ল্যাটফর্মের অংশ হিসেবে কাজ করবে। এই পদক্ষেপটি গুগলকে সৃজনশীল সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে তার উপস্থিতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ProducerAI-কে The Chainsmokers ব্যান্ডের সমর্থন রয়েছে এবং ব্যবহারকারীরা সহজ ভাষায় অনুরোধ দিয়ে সঙ্গীত তৈরি করতে পারেন, উদাহরণস্বরূপ “একটি লোফাই বিট তৈরি করো”। টেক্সট বা ছবি ইনপুটকে অডিওতে রূপান্তর করার ক্ষমতা এই টুলকে বিশেষ করে তুলেছে।
এই টুলের মূল চালিকাশক্তি গুগল DeepMind-এর Lyria 3 মডেল, যা অডিও জেনারেশন ক্ষেত্রে সর্বশেষ গবেষণার ফলাফল। Lyria 3 পূর্বে গুগলের ফ্ল্যাগশিপ Gemini অ্যাপে সংযোজনের পরিকল্পনা ছিল, তবে ProducerAI ব্যবহারকারীদেরকে এআই মডেলের সঙ্গে সরাসরি সহযোগী পার্টনারের মতো যোগাযোগের সুযোগ দেয়।
গুগল ল্যাবসের প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট সিনিয়র ডিরেক্টর এলিয়াস রোমান উল্লেখ করেছেন যে ProducerAI তাদের সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়ায় নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করেছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন ঘরানার মিশ্রণ, প্রিয়জনের জন্য কাস্টম জন্মদিনের গান এবং বন্ধুদের জন্য ব্যায়াম সাউন্ডট্র্যাক তৈরি করতে এই টুল ব্যবহার করেছেন।
প্রযুক্তির এই অগ্রগতি শিল্পী সম্প্রদায়ের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ত্রিপল-গ্র্যামি বিজয়ী র্যাপার ওয়াইস্লেফ জিন সম্প্রতি তার “Back From Abu Dhabi” গানে Lyria 3 এবং গুগল মিউজিক এআই স্যান্ডবক্স ব্যবহার করেছেন। তার রেকর্ডিংয়ে ফ্লুটের স্বর যুক্ত করার জন্য তিনি গুগলের টুলকে দ্রুত সমাধান হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
গুগল DeepMind-এর প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট ডিরেক্টর জেফ চ্যাং ভিডিওতে উল্লেখ করেন যে এই প্রক্রিয়া একবারের ক্লিকের বদলে সূক্ষ্ম কিউরেশন প্রয়োজন। ব্যবহারকারীকে অডিও আউটপুট পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় অংশ নির্বাচন করতে হয়, যা সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।
চ্যাং আরও বলেন, মানব সৃষ্টিশীলতা এখন এআইয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার সময় এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষের কাছে আছে “আত্মা” যা এআই অনুলিপি করতে পারে না, আর এআইয়ের কাছে আছে অপরিসীম তথ্যের ভাণ্ডার। এই পারস্পরিক সম্পূরকতা ভবিষ্যতে সঙ্গীত উৎপাদনের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে পারে।
কিছু সঙ্গীতশিল্পী এআই টুলের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ জেনারেটিভ এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ডেটা প্রায়শই বিদ্যমান সৃষ্টিকর্মের উপর ভিত্তি করে। তারা দাবি করেন যে স্বয়ংক্রিয় সঙ্গীত উৎপাদন শিল্পের মৌলিকত্বকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
গুগল এই উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীল এবং টুলের ব্যবহার নীতিমালা ও কপিরাইট সুরক্ষার জন্য নির্দেশিকা প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। কোম্পানি জোর দিয়ে বলছে যে ব্যবহারকারীরা টুলটি দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করলে সৃজনশীলতা বাড়বে, কপিরাইট লঙ্ঘন নয়।
প্রোডাকশন পর্যায়ে, ProducerAI ব্যবহারকারীকে টেক্সট বা ছবি ইনপুটের ভিত্তিতে সুর, তাল, এবং বাদ্যযন্ত্রের স্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানোর সুবিধা দেয়। ফলে সঙ্গীতশিল্পী দ্রুত ডেমো তৈরি করে ধারণা যাচাই করতে পারেন, যা প্রচলিত রেকর্ডিং প্রক্রিয়ার সময়কে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
গুগল ল্যাবসের এই সংযোজনের ফলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত এআই-চালিত সৃজনশীল টুলের বিকাশের সম্ভাবনা বাড়বে। গবেষক ও ডেভেলপাররা এখন Lyria 3 মডেলের সক্ষমতা ব্যবহার করে নতুন অ্যালগরিদম ও ইন্টারফেস তৈরি করতে পারবে, যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা আরও স্বজ্ঞাত করবে।
সারসংক্ষেপে, ProducerAI-কে গুগল ল্যাবসে অন্তর্ভুক্ত করা সঙ্গীত শিল্পে এআইয়ের ভূমিকা শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি ব্যবহারকারীর স্বাভাবিক ভাষা থেকে সরাসরি অডিও তৈরি করার সুযোগ দেয়, এবং শিল্পী ও প্রযুক্তি উভয়ের জন্য নতুন সৃষ্টিশীল সম্ভাবনা উন্মোচন করে।



