দেড় বছরের বেশি বিরতির পর ভারত‑বাংলাদেশ সীমান্তে আগরতলা‑ঢাকা‑কলকাতা রুটে বাস সেবা আবার শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সপ্তাহে দুদিন পরীক্ষামূলকভাবে গাড়ি চলবে, আর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে সপ্তাহে তিন দিন নিয়মিত চালু হবে। এই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
সেবা পুনরায় চালু হওয়ার আগে রুটটি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জটিল ভিসা প্রক্রিয়ার কারণে বন্ধ ছিল। বন্ধের সময়কাল ১.৫ বছর ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যার ফলে দুই দেশের ব্যবসা ও পর্যটন সংযোগে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ে। এখন পুনরায় চালু হওয়ায় সীমান্ত পারাপারের সময় কমে যাবে এবং বাণিজ্যিক লেনদেন দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগরতলা‑ঢাকা‑কলকাতা রুটের জিএম ওয়ারিছ আলম ডিএস উল্লেখ করেন, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে দুদিনের সেবা শুরু হবে এবং সেবা স্থিতিশীল হলে সপ্তাহে তিন দিন চালু করা হবে। তিনি আরও জানান, সেবা পুনরায় চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে এবং ব্যবসায়িক সুযোগ বাড়বে।
ত্রিপুরা রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জানান, এই রুটের পুনরায় উদ্বোধন দু’দেশের পর্যটন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরাসরি বাস সেবা ভ্রমণ সময় কমিয়ে দেবে, ফলে ব্যবসায়িক সফর ও পর্যটন ভ্রমণ অধিক কার্যকর হবে। ভবিষ্যতে এই সংযোগ আরও দৃঢ় হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
ত্রিপুরা মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাওও রুটের পুনরায় চালু হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আগরতলা থেকে ঢাকা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত সরাসরি বাসের মাধ্যমে ভ্রমণ সময় ও খরচ উভয়ই কমবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সেবা ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ও পর্যটকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে ত্বরান্বিত করবে।
পরিবহন ক্ষেত্রের বিশ্লেষকরা বলছেন, আগরতলা‑ঢাকা‑কলকাতা রুটের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে কয়েক শতাধিক যাত্রী চলাচল করবে, যা টিকিট বিক্রয় ও সেবা প্রদানকারী কোম্পানির আয় বাড়াবে। এছাড়া, বাস রুটের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনেও সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের পণ্য যা দ্রুত সীমান্ত পার হতে চায়।
ট্রেনের তুলনায় বাস রুটের দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কম। আগরতলা থেকে ট্রেনে গুওয়াহাটি হয়ে কলকাতা পৌঁছাতে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার অতিক্রম করতে হয়, যেখানে বাসে ঢাকা হয়ে মাত্র ৫০০ কিলোমিটারই যথেষ্ট। এই পার্থক্য ভ্রমণ সময় কমিয়ে দেয় এবং লজিস্টিক খরচ হ্রাস করে, যা ব্যবসায়িক সংস্থার জন্য লাভজনক।
সেবা পুনরায় চালু হওয়ার মূল কারণ হিসেবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভিসা জটিলতা উল্লেখ করা হয়েছে, যা পূর্বে সেবাকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। এখন দুই দেশের সরকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও মৈত্রীকে ভিত্তি করে সেবা পুনরায় শুরু করেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, রুটটি সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল হলে সপ্তাহে পাঁচ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা টিকিট বিক্রয়, হোটেল শিল্প ও স্থানীয় ব্যবসার জন্য অতিরিক্ত আয় সৃষ্টি করবে। তবে ভিসা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি না হলে সেবার সম্প্রসারণে বাধা আসতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, আগরতলা‑ঢাকা‑কলকাতা বাস সেবা পুনরায় চালু হওয়া দুই দেশের বাণিজ্যিক ও পর্যটন সংযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। সেবা স্থিতিশীল হলে তা স্থানীয় অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখবে এবং সীমান্ত পারাপারকে সহজ করে ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করবে।



