২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নবনিযুক্ত সেতু ও সড়ক ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থেকে তিনজন প্রতিনিধির দল সাক্ষাৎ করেন। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন জাইকার প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুচি তোমোহিদে, যাঁরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চলমান পরিবহন মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে এসেছেন।
সাক্ষাৎকারে জাইকা প্রতিনিধিরা জাপান অর্থায়নে চালু থাকা বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের সামগ্রিক অবস্থা তুলে ধরেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর উন্নয়ন, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে পরিচালিত মেট্রোরেল, চট্টগ্রাম‑কক্সবাজার উন্নয়ন প্রকল্প এবং কাঁচপুর, মেঘনা, গোমতী ও যমুনা রেল সেতুসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ।
প্রতিনিধিদল মন্ত্রীর সামনে প্রতিটি প্রকল্পের বর্তমান বাস্তবায়ন স্তর, নির্ধারিত সময়সীমা এবং পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা বিশদভাবে উপস্থাপন করেন। তারা জানিয়েছেন যে বেশিরভাগ কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হচ্ছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে তহবিল ও প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রতিনিধিদল নতুন মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে দেশের পরিবহন খাতে রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আসবে। জাইকা পক্ষের আশাবাদী মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে জাপান‑বাংলাদেশ সহযোগিতা এই প্রকল্পগুলোকে দ্রুততর ও গুণগত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।
সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উল্লেখ করেন, এই অবকাঠামো প্রকল্পগুলো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সময়মতো ও মানসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।
মন্ত্রীর বক্তব্যে গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তিনি জাইকার অব্যাহত প্রযুক্তিগত সহায়তা ও তহবিলের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উল্লেখ করে, ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত কাজের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে মন্ত্রী জাপান সরকার ও জাইকা দলকে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিবহন খাতের উন্নয়নে অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি জাপান‑বাংলাদেশ বন্ধুত্বের ভিত্তিতে চলমান সহযোগিতা দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে রেলপথ সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং নৌপরিবহন সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি প্রকল্পের সমন্বয় ও তদারকি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ছিল।
সাক্ষাৎকারের পর মন্ত্রীর অফিসে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠক নির্ধারিত হয়। এতে জাইকা প্রতিনিধিদের প্রস্তাবিত প্রযুক্তিগত সহায়তা ও তহবিলের শর্তাবলী পর্যালোচনা করা হবে।
এই বৈঠকটি বাংলাদেশের পরিবহন অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এবং জাপান‑বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রকল্পের সময়সূচি ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত সমন্বয় সভা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।



