চট্টগ্রাম-১ আসনধারী নুরুল আমিনের গাড়ি আজ বিকেল পাঁচটায় ফেনির ঢাকা‑চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোহাম্মদ আলী এলাকায় সড়ক বিভাজকে ধাক্কা খায়। গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে মহিলাপ হাইওয়ে থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম现场ে উপস্থিত হয়ে ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণ করেন।
অফিসার জানান, গাড়ি বিভাজকে আঘাতের পর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আহত এমপি নুরুল আমিনকে কনভয় থেকে অন্য গাড়িতে স্থানান্তর করে চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়।
গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় মহিলাপ থানা স্টেশনে তাড়া করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তদন্তের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। গাড়ির ক্ষতি ও দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
মিরসরাই উপজেলা ইউনিটের বিএনপি সদস্য মেজবাহ উদ্দিন মানিক জানান, নুরুল আমিনকে চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তির মাথায় আঘাতের সন্দেহে সিটি স্ক্যান করা হয়েছে এবং বর্তমানে পর্যবেক্ষণাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের চিকিৎসা দল জানান, সিটি স্ক্যানের ফলাফল অনুযায়ী কোনো গুরুতর অভ্যন্তরীণ ক্ষতি পাওয়া যায়নি, তবে মাথার আঘাতের কারণে রোগীর অবস্থা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, তবে চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া হবে।
দুর্ঘটনা ঘটার সময় গাড়ি চলাচলকারী অন্যান্য গাড়ি চালকরা ঘটনাস্থলে থেমে গিয়ে পুলিশকে সহায়তা করেন এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেন। পুলিশ তৎক্ষণাৎ সড়কটি বন্ধ করে নিরাপত্তা বজায় রাখে এবং পরবর্তীতে সড়কটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়।
নুরুল আমিনের কনভয় থেকে গাড়ি পরিবর্তন করার সময় কোনো অতিরিক্ত দুর্ঘটনা ঘটেনি, এবং কনভয়ের অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। কনভয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকায় দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান সম্ভব হয়েছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। মিরসরাই উপজেলার বিএনপি শাখা নেতারা নুরুল আমিনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে একটি সমর্থনসূচক বিবৃতি জারি করেছেন এবং দুর্ঘটনার তদন্তে স্বচ্ছতা দাবি করেছেন।
অধিকাংশ বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এমপি নুরুল আমিনের স্বাস্থ্য অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী কার্যক্রমে সীমিত অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি এখনও তার কনভয় ও পার্টি সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও চলমান। মহিলাপ থানা থানা প্রধানের মতে, গাড়ির গতি, রক্ষণাবেক্ষণ অবস্থা এবং সড়কের অবস্থা ইত্যাদি বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় থাকবে। ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এই ঘটনার ফলে চট্টগ্রাম ও ফেনি অঞ্চলের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আবারও আলোচনা তীব্র হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নুরুল আমিনের পরিবার ও সহকর্মীরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বের পুনরায় গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে।



