বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) প্রকল্পের চুক্তি শুধুমাত্র জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত হলে সম্পন্ন হবে।
বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রীকে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকল্পের মূল দিকগুলো উপস্থাপন করা হয় এবং তিনি কিছু প্রাথমিক নির্দেশনা প্রদান করেন। তবে তিনি সরাসরি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি; বরং আশিক চৌধুরীকে প্রকল্পের পর্যালোচনা চালিয়ে যেতে বলেছিলেন।
আশিক চৌধুরী উল্লেখ করেন, জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্তই গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চুক্তি নিয়ে কোনো দিকনির্দেশনা না থাকলেও, স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হলে চুক্তি করা হতো। বর্তমান সরকারও একই নীতি অনুসরণ করবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
বক্তব্যের মূল বিষয় হল, চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বাক্ষর করা হবে না; প্রথমে প্রকল্পের অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা এবং কৌশলগত দিকগুলো বিশ্লেষণ করা হবে। আশিক চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, দ্রুত কোনো উপসংহারে পৌঁছানো উচিত নয়, কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এ পর্যন্ত এনসিটি প্রকল্পের জন্য বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। যদি চুক্তি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে এটি চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বাড়িয়ে দেশের রপ্তানি-আমদানি খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন চট্টগ্রাম বন্দরকে এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাবের দিকে এগিয়ে নিতে পারে। তবে বিনিয়োগের শর্ত, টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন এবং পার্টনারশিপের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আশিক চৌধুরী উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে ছিল না; মূল বিষয় ছিল স্বার্থ রক্ষা করা। বর্তমান সরকারও একই দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করবে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্পষ্ট সংকেত।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা মূলত প্রকল্পের প্রাথমিক কাঠামো এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো চুক্তি স্বল্পমেয়াদী লাভের জন্য নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্যকে সমর্থন করতে হবে।
এই বিবৃতি বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বন্দর পরিচালনা সংস্থা এবং শিপিং কোম্পানিগুলো এখন চুক্তি শর্তাবলী নিয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করবে এবং সম্ভাব্য শর্তাবলীর ওপর আলোচনা চালিয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, যদি চুক্তি স্বচ্ছ এবং ন্যায্য শর্তে সম্পন্ন হয়, তবে এটি দেশের লজিস্টিক খাতের প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং বিদেশি মুদ্রা আয় বৃদ্ধি করবে। অন্যদিকে, স্বার্থের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক ও কৌশলগত ক্ষতি করতে পারে।
আশিক চৌধুরী শেষ করে বলেন, প্রথম দিনের মিটিং হওয়ায় এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়, তবে সরকার জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীকে সংক্ষিপ্তভাবে ব্রিফ করা হয়েছে এবং তিনি কিছু প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যা পরবর্তী আলোচনার ভিত্তি হবে।
সারসংক্ষেপে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের চুক্তি শুধুমাত্র তখনই স্বাক্ষরিত হবে যখন তা দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এই নীতি বিনিয়োগকারীদের জন্য স্পষ্টতা প্রদান করবে এবং দেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।



