প্লাগ‑ইন হাইব্রিড গাড়ি (PHEV) কে ইলেকট্রিক গাড়ির দিকে অগ্রসর হওয়ার সেতু হিসেবে প্রচার করা হয়, যেখানে স্বল্প দূরত্বে বৈদ্যুতিক চালনা এবং দীর্ঘ যাত্রায় জ্বালানির ব্যবহার করা হয়। তবে এই মডেলগুলো সত্যিকারের পরিবেশবান্ধব হতে হলে নিয়মিত চার্জ করা দরকার, না হলে নির্গমন হ্রাসের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয় না।
ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জার্মানির এক মিলিয়ন প্লাগ‑ইন হাইব্রিড গাড়ির ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, মোট গাড়ির মাত্র তৃতীয়াংশেরও কমই নিয়মিতভাবে চার্জ করা হয়েছে; বাকি গাড়িগুলো হয় মাঝে মাঝে বা একেবারেই চার্জ করা হয় না। এই ফলাফল গাড়ি নির্মাতাদের জন্য সতর্কতা স্বরূপ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অটোমেকার যারা PHEV-কে আমেরিকান চালকদের জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করছে।
ফোর্ডের সিইও জিম ফার্লি সম্প্রতি আয় কলের সময় উল্লেখ করেন যে, কোম্পানি পুরো লাইনআপে CO₂ হ্রাসের লক্ষ্য রাখছে এবং তা দক্ষতার সঙ্গে অর্জন করতে চায়। তবে ফ্রাউনহোফার গবেষণায় প্রকাশিত তথ্য দেখায় যে, PHEV গাড়িগুলো প্রায়শই তাদের দক্ষতা ও নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ।
গবেষণায় দেখা যায়, টয়োটা গাড়ির মালিকরা গড়ে মোট শক্তির ৪৪% বৈদ্যুতিকভাবে ব্যবহার করেন, যা চার্জের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অনুপাত। অন্যদিকে পোরশের PHEV চালকদের বৈদ্যুতিক ব্যবহার মাত্র ০.৮%, যা দুই বছরের মধ্যে গড়ে ৭ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমান। অর্থাৎ, পোরশের গড় চালক একবারের চেয়ে বেশি চার্জ করেন না এবং ব্যাটারির ক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার করেন।
পূর্ববর্তী গবেষণাগুলো ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, PHEV গাড়ির বাস্তব নির্গমন তাদের আনুষ্ঠানিক রেটিংয়ের তুলনায় প্রায় ৩.৫ গুণ বেশি হতে পারে। নতুন গবেষণাটি এই পার্থক্যের মূল কারণ সরাসরি গাড়ি থেকে প্রাপ্ত চার্জের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করেছে। PHEV গাড়িগুলো হাইব্রিডের মতোই গ্যাস ও বৈদ্যুতিক শক্তি মিশ্রভাবে ব্যবহার করে, তবে এই গবেষণায় উভয় শক্তির উৎস আলাদা করে পরিমাপ করা হয়েছে।
একটি উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা হল PHEV গাড়ির ব্যাটারির ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম। বেশিরভাগ মডেল স্বল্প দূরত্বের জন্যই যথেষ্ট, যেখানে কিছু গাড়ি মাত্র কয়েক মাইলই বৈদ্যুতিকভাবে চলতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিক্রি হওয়া গাড়িগুলো প্রায় ২০ মাইল (৩২ কিলোমিটার) পর্যন্ত ব্যাটারিতে চালানো যায়, যা দৈনন্দিন কম দূরত্বের যাত্রার জন্য যথেষ্ট হলেও দীর্ঘ ভ্রমণের ক্ষেত্রে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বাড়ায়।
এই ফলাফলগুলো স্বয়ংচালিত শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দেয়। যদি ব্যবহারকারীরা গাড়ি নিয়মিত চার্জ না করেন, তবে PHEV-কে পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে গণ্য করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে, গাড়ি নির্মাতাদের উচিত ব্যাটারির ক্ষমতা বাড়ানো এবং চার্জিং অবকাঠামোকে ব্যবহারকারী-বান্ধব করা, যাতে বৈদ্যুতিক চালনা বাস্তবিকভাবে অধিকাংশ যাত্রায় ব্যবহার করা যায়।
যৌথভাবে, নীতিনির্ধারক ও শিল্পের অংশীদারদেরও এই তথ্য বিবেচনা করে ভবিষ্যৎ গাড়ি নীতি গঠন করা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, চার্জিং স্টেশন নেটওয়ার্কের বিস্তার, গৃহস্থালির চার্জার প্রণোদনা এবং ব্যবহারকারীর সচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে, যাতে PHEV গাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবহার বাড়ে এবং নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্য অর্জিত হয়।
সারসংক্ষেপে, ফ্রাউনহোফার বিশ্লেষণ দেখায় যে জার্মানির অধিকাংশ প্লাগ‑ইন হাইব্রিড গাড়ি পর্যাপ্তভাবে চার্জ করা হচ্ছে না, ফলে তাদের পরিবেশগত সুবিধা সীমিত। এই বাস্তবিক তথ্য স্বয়ংচালিত শিল্পকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে, যাতে ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে রূপান্তর আরও কার্যকর ও টেকসই হয়।



