ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের প্রভাবের মুখে থাকা অঞ্চলে, একটি ভ্যান‑আকৃতির মোবাইল ল্যাব ব্যবহার করে ভাইরাসবিদ গ্যানা কোভালেনকো HIV‑এর জেনেটিক পরিবর্তন ট্র্যাক করছেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল যুদ্ধ‑প্রবণ এলাকায় ভাইরাসের বিস্তার ও ওষুধের প্রতি প্রতিরোধের ধরণ দ্রুত শনাক্ত করা।
ইউক্রেনে HIV‑এর সংক্রমণ ১৯৯০‑এর দশক থেকে শুরু হয়েছে, প্রধানত ইনজেকশন‑ড্রাগ ব্যবহারকারী এবং যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে। রোগের বিস্তার ধীরে ধীরে বাড়লেও, সঠিক তথ্য সংগ্রহের সুযোগ সীমিত ছিল।
২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল এবং ২০২২ সালে পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ স্বাস্থ্যসেবার কাঠামোকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পরীক্ষার সুবিধা, চিকিৎসা ও সুঁই‑বিনিময় প্রোগ্রামের অভাবের ফলে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং রোগের প্রকৃত মাত্রা নির্ণয় কঠিন হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে ভাইরাসের জেনেটিক বিশ্লেষণ জরুরি, তবে প্রচলিত সিকোয়েন্সিং সুবিধা সাধারণত বড় ল্যাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা রোগের হটস্পট থেকে দূরে অবস্থিত। ফলে সময়মতো ডেটা সংগ্রহে বড় বাধা সৃষ্টি হয়।
আন্তর্জাতিক ARTIC নেটওয়ার্ক এই ফাঁক পূরণে কাজ করে, দূরবর্তী বা প্রবেশযোগ্য নয় এমন এলাকায় সিকোয়েন্সিং সরঞ্জাম পৌঁছে দেয়। নেটওয়ার্কের লক্ষ্য হল পোর্টেবল টেকনোলজি ব্যবহার করে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত জেনেটিক ডেটা সংগ্রহ করা।
কোভালেনকো, যিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইরভাইনের গবেষক, ARTIC নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে এই পদ্ধতি ইউক্রেনে প্রয়োগের সম্ভাবনা পরীক্ষা করেন। তিনি এবং তার দল ভ্যানের ভিতরে ল্যাবের সব প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করে একটি চলমান গবেষণা ইউনিট তৈরি করেন।
ভ্যানের ভিতরে পোর্টেবল সিকোয়েন্সার, PCR মেশিন, এবং নমুনা প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম সংযুক্ত। এই ব্যবস্থা দ্রুত রক্তের নমুনা থেকে ভাইরাসের জিনোম বের করে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম, যা প্রচলিত ল্যাবের তুলনায় সময়ের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেয়।
আগস্ট ২০২৪-এ লভিভে প্রথম পরীক্ষামূলক চালনা করা হয়, যেখানে ভ্যানটি নিরাপদ পশ্চিমাঞ্চলের শরণার্থী কেন্দ্রের নিকটে অবস্থান করে। দলটি দিনের বেলায় কাজ চালিয়ে যায়, কারণ রাতের দিকে মিসাইল আক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। তিন দিনের কাজের মধ্যে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা যুদ্ধের কারণে চিকিৎসা সেবা প্রদানকালে যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন তা ভাগ করে নেন।
কর্মীরা জানান, কখনও কখনও মিসাইল আক্রমণ দিনের বেলাতেও শুরু হয়, ফলে তারা তৎক্ষণাৎ সেবা বন্ধ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য হন। এই ধরনের হঠাৎ ঘটনার ফলে রোগীর তথ্য সংগ্রহ ও চিকিৎসা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
মোবাইল ল্যাবের মাধ্যমে সংগৃহীত ডেটা HIV‑এর নতুন মিউটেশন, বিশেষ করে ওষুধের প্রতি প্রতিরোধী স্ট্রেইনের সনাক্তকরণে সহায়তা করে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই পরিবর্তনগুলো চিহ্নিত করা হলে, চিকিৎসা নীতি দ্রুত সমন্বয় করা সম্ভব হয়, যা রোগীর জীবনরক্ষা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কোভালেনকো ও তার দল এই পদ্ধতিকে অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে, যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে, ভাইরাসের বিস্তার পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহারযোগ্য বলে মনে করেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি ভ্যান‑ল্যাব চালু করে ইউক্রেনের বিভিন্ন প্রান্তে সেবা পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
যুদ্ধের অশান্ত পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখা চ্যালেঞ্জপূর্ণ, তবে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও রোগ নিয়ন্ত্রণের গতি বাড়ানো সম্ভব। পাঠকরা কি মনে করেন, এমন মোবাইল ল্যাবের মডেল অন্যান্য সংকটাপন্ন দেশে প্রয়োগ করা উচিত?



