অভিনেতা জে.কে. সিমন্স, এবি ইলিয়ট এবং জন রেনল্ডসের নেতৃত্বে ‘Purgatory’ শিরোনামের নতুন কমেডি‑ড্রামা চলচ্চিত্রের শুটিং সম্প্রতি কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডের সেন্ট জনস শহরে সমাপ্ত হয়েছে। ছবিটি লিন্ডসে ল্যানজিলোটা পরিচালিত, যা তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য পরিচালনাকার্য এবং ১৯৮০‑এর দশকে বেড়ে ওঠা কিশোরীর জীবনের টুকরো তুলে ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রযোজনার শেষের মুহূর্তে কাস্ট ও ক্রু একসাথে সমাপ্তি উদযাপন করে, চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
লিন্ডসে ল্যানজিলোটা এই প্রকল্পে পরিচালক ও প্রযোজক উভয়ই ভূমিকা পালন করেছেন, এবং চিত্রনাট্যটি ক্রিস্টিন স্পিয়ার রচিত। ল্যানজিলোটা তার ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করছেন, যেখানে তিনি ১৯৮০‑এর দশকের সামাজিক পরিবেশকে পটভূমি করে কিশোরী বেট্রিসের অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে কেন্দ্রীয় করে তুলেছেন। তার মতে, এই গল্পটি স্ব-অন্বেষণ, পারিবারিক বিচ্ছেদ এবং বন্ধুত্বের জটিলতা নিয়ে কাজ করে, যা দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে।
প্রধান চরিত্র বেট্রিস গ্রেভেলকে নবাগত অভিনেত্রী রুবি ম্যাকগারিন অভিনয় করছেন, যিনি ১৩ বছর বয়সী কিশোরীর জটিল মানসিক অবস্থাকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করবেন। তার মা, যাকে এবি ইলিয়ট অভিনয় করছেন, স্ব-অন্বেষণের পথে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, ফলে বেট্রিস এবং তার বোন লরেন ম্যাকরে (লরেন ম্যাকরে) পিতার সঙ্গে একা থেকে যায়, যাকে জন রেনল্ডস অভিনয় করছেন। জে.কে. সিমন্স বেট্রিসের পিতা মালোনের ভূমিকায় উপস্থিত, যিনি পরিবারের বিচ্ছিন্নতার পর এক ধীরগতি মানসিক অবস্থায় আছেন।
চিত্রের কাহিনী বেট্রিসের পরিবারিক কাঠামোর ভাঙনের পর তার আত্ম-সংশোধনের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে। সে স্কুলে বুলির মুখোমুখি হয়, বন্ধুত্বের টানাপোড়েনের সঙ্গে লড়াই করে এবং এক সন্ধ্যায় গোপনীয়তা ভঙ্গের পার্টিতে অংশ নেয়। এছাড়া, তার বাড়িতে কাজ করা এক চোরাচালানকারী শিশুসেবিকা তার জীবনে অপ্রত্যাশিত মোড় এনে দেয়, যা বেট্রিসকে নিজের পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করে। এই সব ঘটনার মাধ্যমে বেট্রিসের বিকাশের পথ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সহায়ক চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্যাক ইনানেন, যিনি স্কুলের ভাইস-প্রিন্সিপাল এবং বেট্রিসের মায়ের নতুন প্রেমিকের ভূমিকায় উপস্থিত। মেরি ওয়ালশ একটি শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন, আর জুলিয়ান আরিয়েটা পিটিএ প্রেসিডেন্টের ভূমিকায় দেখা যায়। মার্কাস নগো এবং জেমা রোসারিয়া রে নতুন মুখ, যারা গল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সমন্বিত কাস্টের মাধ্যমে ছবিটি ১৯৮০‑এর দশকের সামাজিক ও পারিবারিক গতিবিদ্যাকে জীবন্ত করে তোলার লক্ষ্য রাখে।
ল্যানজিলোটা চলচ্চিত্রের থিমকে হৃদয়গ্রাহী ও হাস্যকরভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন, যাতে কঠিন বিষয়গুলোও হালকা স্বরে প্রকাশ পায়। তিনি উল্লেখ করেন, বেট্রিসের চরিত্রটি তার নিজের কিশোর বয়সের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা তাকে গল্পের প্রতি গভীর সংবেদনশীলতা এনে দেয়। পরিচালক বিশ্বাস করেন, এই ধরনের গল্পগুলো বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারে, কারণ সেগুলো মানবিক সম্পর্কের মৌলিক দিকগুলোকে স্পর্শ করে।
‘Purgatory’ এর প্রযোজনায় ল্যানজিলোটা, সিমোনে কিরলিউ, আল্দো ল্যানজিলোটা, দেনিজ গুমুস্তাস, মার্ক ও’নিল এবং গাস মারি সহ একাধিক প্রযোজক যুক্ত আছেন। এক্সিকিউটিভ প্রযোজক হিসেবে রায়ান হর্টন, এবি ইলিয়ট এবং তাই টি (সম্পূর্ণ নাম প্রকাশিত হয়নি) কাজ করছেন। এই দলটি চলচ্চিত্রের আর্থিক ও সৃজনশীল দিকগুলোকে সমন্বয় করে, যাতে শেষ পর্যন্ত একটি মানসম্মত ও আকর্ষণীয় কাজ তৈরি হয়।
চলচ্চিত্রের পোস্ট-প্রোডাকশন কাজ বর্তমানে অগ্রসর হচ্ছে, এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও মুক্তির সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে শিল্প জগতে ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের প্রতি উচ্চ প্রত্যাশা গড়ে উঠেছে। বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের জন্যও এই চলচ্চিত্রটি একটি নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করবে, যেখানে পারিবারিক বন্ধন, আত্ম-অন্বেষণ এবং সামাজিক পরিবর্তনের মিশ্রণ দেখা যাবে।
‘Purgatory’ এর মাধ্যমে ল্যানজিলোটা প্রথমবারের মতো পরিচালক হিসেবে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করছেন, এবং তার সঙ্গে যুক্ত কাস্ট ও ক্রু সদস্যদের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছবিটিকে সমৃদ্ধ করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলচ্চিত্রটি শেষ পর্যন্ত কীভাবে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে, তা সময়ই বলবে, তবে বর্তমান পর্যায়ে এটি একটি প্রতিশ্রুতিশীল প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত।



