26.5 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবান্দরবানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে ৪৩ একর অবৈধ পপি ক্ষেত ধ্বংস

বান্দরবানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে ৪৩ একর অবৈধ পপি ক্ষেত ধ্বংস

বান্দরবানের কঠিন পার্বত্য এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি সমন্বিত দল ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি দুই দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ পপি চাষের ১৭টি স্থানে প্রায় ৪৩ একর জমি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য মাদকদ্রব্যের উৎপাদন বন্ধ করা এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

অভিযানটি ডিমপাহাড় থেকে সাঙ্গু নদীর মধ্যবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত ছিল, যেখানে চাষ করা পপিগাছগুলোকে সম্পূর্ণভাবে কেটে ফেলা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, এই এলাকায় মোট ১৭টি পপি ক্ষেত চিহ্নিত করা হয় এবং প্রতিটি স্থানে গাছের মূল থেকে শিকড় পর্যন্ত ধ্বংস করা হয়। ফলে প্রায় ৪৩ একর জমিতে গাছের সম্পূর্ণ নিধন নিশ্চিত করা হয়েছে।

অভিযানের সময় দলগুলো স্থানীয় গৃহস্থালির সাথে সমন্বয় করে কাজ করেছে এবং কোনো সশস্ত্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়নি। ডিমপাহাড়ের উঁচু পাহাড়ি পথে গিয়ে দলগুলো পপিগাছের রোপণকৃত বীজের গাছগুলোকে কুঁচকিয়ে ফেলেছে, যা মাদক উৎপাদনের সম্ভাবনা শূন্যে নামিয়ে এনেছে। সাঙ্গু নদীর তীরে অবস্থিত ক্ষেতগুলোতে বিশেষভাবে গাছের মূলভাগে গাছের কুঁড়ি ও শিকড় ভেঙে ফেলা হয়েছে, যাতে পুনরায় চাষের সুযোগ না থাকে।

অভিযানের পরবর্তী পর্যবেক্ষণে আরও কিছু জমিতে অবৈধ পপি চাষের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই নতুন তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় ধ্বংসকাজ দ্রুত সম্পন্ন করবে। এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযানকে অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা ইতিমধ্যে গৃহীত হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি উভয়ই জানিয়েছে যে, দেশের সকল জাতিগোষ্ঠীর নিরাপত্তা রক্ষা এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে তারা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাদক উৎপাদন ও সরবরাহের মূল উৎস ধ্বংস করা দেশের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অভিযানের ফলাফল অনুযায়ী, ভবিষ্যতেও এ ধরনের যৌথ অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ পপি চাষের পুনরাবৃত্তি রোধে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত হস্তক্ষেপের ব্যবস্থা গৃহীত হবে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, অবৈধ পপি চাষের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রদানকারী বিধান প্রয়োগ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে মাদকদ্রব্যের সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া এবং সমাজে এর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

সামগ্রিকভাবে, বান্দরবানের এই অভিযান মাদক উৎপাদনের মূল ভিত্তি ধ্বংসের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে মাদক সমস্যার মোকাবিলা করা হবে এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি রক্ষায় অবদান রাখা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments