প্রধানমন্ত্রীর আজকের নির্দেশে চট্টগ্রাম বন্দর প্রকল্পের নতুন মোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (NCT) সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেবে। এই নির্দেশনা ক্যাবিনেট বিভাগে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে প্রদান করা হয়, যেখানে টার্মিনালের কার্যক্রম ও সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের আয়োজন ক্যাবিনেট বিভাগে করা হয় এবং এতে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আহসান খান চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।
বৈঠকের সময় চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের মূল বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে NCT সংক্রান্ত কোনো চুক্তি যদি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা না করে তবে তা স্বাক্ষর করা হবে না। এই নির্দেশনা টার্মিনালের ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের DP World সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হয়। চৌধুরী আশিক ব্যাখ্যা করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান ছিল যে চুক্তি শুধুমাত্র তখনই স্বাক্ষর করা হবে যদি তা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি এখনো পরিবর্তন হয়নি এবং নতুন সরকারেও একই রকম শর্ত বজায় থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত বিশদ না দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈঠকটি প্রথম দিনেই অনুষ্ঠিত হওয়ায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনও অপ্রয়োজনীয়। তাই, NCT সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রকাশ করা হয়নি।
বৈঠকের শেষে প্রধানমন্ত্রীকে টার্মিনালের সামগ্রিক কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করা হয়। টার্মিনালের নির্মাণ অগ্রগতি, পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সুবিধা সম্পর্কে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তথ্য শেয়ার করেন।
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি টার্মিনালের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং উল্লেখ করেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য সকল সিদ্ধান্তে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে স্বচ্ছতা ও স্বার্থসঙ্গতি বজায় রাখা দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
এই নির্দেশনা দেশের বাণিজ্যিক অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দেয়। NCT যদি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কার্যকরী হয় তবে এটি চট্টগ্রাম বন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে শক্তিশালী করবে, তবে তা অর্জনের জন্য শর্তাবলী কঠোরভাবে পালন করা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি সরকার জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে চুক্তি সম্পন্ন করে তবে তা বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, শর্ত পূরণে অক্ষমতা হলে সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ হারানোর ঝুঁকি থাকবে।
পরবর্তী ধাপে, সরকার NCT সংক্রান্ত প্রস্তাবনা ও চুক্তির খসড়া পর্যালোচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে বিস্তারিত নির্দেশনা দেবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার সময় স্বচ্ছতা ও সমতা বজায় রাখতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে।
সারসংক্ষেপে, প্রধানমন্ত্রীর আজকের নির্দেশনা NCT প্রকল্পকে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি স্পষ্ট নীতি নির্ধারণ করে। এই নীতি অনুসরণে সরকার, বিনিয়োগকারী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যা শেষ পর্যন্ত দেশের বাণিজ্যিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।



