মিরসরাই (চট্টগ্রাম‑১) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন আজ বিকেলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা‑চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী এলাকায়, যখন তিনি কুমিলা থেকে চট্টগ্রাম ফেরার পথে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বেলা সাড়ে তিনটায় গাড়ি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, ফলে নুরুল আমিনসহ কয়েকজন গুরতর আঘাত পায়।
দুর্ঘটনার পরপরই নুরুল আমিনকে চট্টগ্রাম শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে তিনি বর্তমানে পর্যবেক্ষণাধীন আছেন এবং আঘাতের মাত্রা নির্ধারণের জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষা চালু রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অবস্থায় তিনি কোনো গুরুতর জীবন‑হুমকির মুখে না থাকলেও, পুনরুদ্ধারের জন্য কয়েক দিনের বিশ্রাম প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে।
নুরুল আমিনের জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৬৮ সালে মিরসরাই উপজেলার ফেনী নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত ওচমানপুর ইউনিয়নের পাতাকোটা গ্রামে। তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের পদে নির্বাচিত হন, যা তাকে গ্রাম স্তরের জননেতা হিসেবে পরিচিত করে তোলে। পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন।
২০০৩ সালে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জন্য প্রার্থী হন এবং ভোটের মাধ্যমে জয়লাভ করে ঐ পদে অধিষ্ঠিত হন। চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ এবং শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যান, যা তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়তা করে। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি দলের সমর্থনে তিনি আবার চেয়ারম্যানের পদে নির্বাচিত হন, তবে পরে দলীয় সিদ্ধান্তের ফলে তাকে ঐ পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে ভোটের সংখ্যায় অপর্যাপ্ত থাকায় নির্বাচিত হতে পারেননি। তবে ২০২৪ সালের (অথবা বর্তমান) সংসদ নির্বাচনে তিনি আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১,২৭,৬৪৫ ভোট সংগ্রহ করেন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে পরাজিত করে মিরসরাই আসনে জয়লাভ করেন। এই জয় তাকে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেয় এবং তিনি এখন এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে নুরুল আমিনের দায়িত্বে রয়েছে তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন প্রকল্প ত্বরান্বিত করা, স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধান করা এবং জাতীয় নীতিতে তার এলাকার স্বার্থ রক্ষা করা। তার উপস্থিতি ও সক্রিয়তা স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে বিএনপি দলের কৌশলগত পরিকল্পনায়।
দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকে তার পার্টি ও সহকর্মীরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে এবং তিনি যে কোনো সরকারি কাজ থেকে অস্থায়ীভাবে বিরত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। এই সময়ে তার নির্বাচনী এলাকার প্রশাসনিক কাজগুলো তার সহকারী ও পার্টি কর্মীদের মাধ্যমে চালিয়ে যাওয়া হবে, যাতে তার অনুপস্থিতিতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ না হয়।
মিরসরাই এলাকার বাসিন্দারা নুরুল আমিনের স্বাস্থ্য অবস্থা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তিনি শীঘ্রই সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন এই আশায় রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষক গোষ্ঠীও তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে, কারণ তার উপস্থিতি তাদের সমস্যার সমাধানে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
সংসদে নুরুল আমিনের অস্থায়ী অনুপস্থিতি পার্লামেন্টের চলমান আলোচনায় কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে তার নির্বাচনী এলাকার স্বার্থ সংরক্ষণে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সংসদে তার পক্ষে কাজ করা অন্যান্য দলীয় সদস্য ও সমর্থকরা তার অনুপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উপস্থাপন করতে প্রস্তুত।
অধিকাংশ বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, নুরুল আমিনের সুস্থতা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি আবার সক্রিয়ভাবে সংসদীয় কাজ ও তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পে মনোনিবেশ করবেন। তার পুনরায় দায়িত্বে ফিরে আসা স্থানীয় রাজনৈতিক সমতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে এবং আসন্ন নির্বাচনী চক্রে তার পার্টির অবস্থান শক্তিশালী করবে।
এই ঘটনার পরপরই পার্টি নেতৃত্ব নুরুল আমিনের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে। পাশাপাশি তিনি যে কোনো জরুরি সভা বা পার্লামেন্টের সেশনে অংশ নিতে না পারলেও, তার দলীয় সহকর্মীরা তার মতামত ও নির্দেশনা অনুসারে কাজ চালিয়ে যাবে।
নুরুল আমিনের স্বাস্থ্য অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আবার তার দায়িত্বে ফিরে আসবেন, যা তার নির্বাচনী এলাকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত হবে। তার দ্রুত আরোগ্য এবং পুনরায় কাজ শুরু করা স্থানীয় জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে।



