26.5 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিশফিকুর রহমান প্রেসিডেন্টের আগস্ট ৫‑এর তথ্য লুকানোর অভিযোগে ফেসবুক পোস্ট

শফিকুর রহমান প্রেসিডেন্টের আগস্ট ৫‑এর তথ্য লুকানোর অভিযোগে ফেসবুক পোস্ট

বাংলাদেশ জামায়াত‑ই‑ইসলামির আমীর ও সংসদের বিরোধী নেতা শফিকুর রহমান আজ বিকেল ৫:০৬ টায় নিজের নিশ্চিত ফেসবুক পৃষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের আগস্ট ৫, ২০২৪ ঘটনার তথ্য লুকানোর অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে উল্লিখিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরের অভিজ্ঞতা ও বিবৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

শফিকুর রহমান, যিনি জামায়াত‑ই‑ইসলামির সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত এবং সংসদে বিরোধী দলের অন্যতম মুখ, তার পোস্টে প্রেসিডেন্টের পূর্বের ও বর্তমান বক্তব্যের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ উল্লেখ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপ্রধানের জুলাই উত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ের বিবরণে আজকের মন্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিনের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি জুলাই উত্থানের ফলে সৃষ্ট ক্ষমতার পরিবর্তন ও তার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কথা বলেছেন। শফিকুরের মতে, সেই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপ্রধানের বক্তব্যে আগস্ট ৫, ২০২৪ তারিখে ঘটিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায়নি।

শফিকুরের পোস্টে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপ্রধানের সেই দিন উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে যে কথোপকথন হয়েছিল, বিশেষ করে উচ্ছেদিত প্রধানমন্ত্রীকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে পদত্যাগ করা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তা বর্তমান প্রকাশে অনুপস্থিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আজকের মন্তব্যে সেই পূর্বের তথ্যের কোনো প্রতিফলন নেই।

এই পার্থক্যকে তুলে ধরে শফিকুর জিজ্ঞাসা করেন, রাষ্ট্রপ্রধান কি সেই দিন লক্ষ লক্ষ মানুষ যে তথ্য শুনেছিল, তা বর্তমান বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে প্রকাশ করবেন? তিনি দাবি করেন, জনগণ সেই সময়ের ঘটনাবলী সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এবং তা অস্বীকার করা যায় না।

শফিকুরের মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “জাতি অন্ধ নয়; সর্বোচ্চ সরকারি পদে থাকা ব্যক্তির এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য।” তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের এই ধরনের তথ্য লুকানোর প্রচেষ্টা জনগণের বিশ্বাসকে ক্ষুণ্ন করবে বলে সতর্ক করেন।

এই অভিযোগের ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। জামায়াত‑ই‑ইসলামির নেতৃত্বের এই প্রকাশনা সরকার-বিরোধী শক্তির মধ্যে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে এবং পার্টি-গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সমালোচনার তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল দল থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি, তবে এই ধরনের প্রকাশনা সংসদে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। শফিকুরের পোস্টে উল্লিখিত বিষয়গুলো যদি পার্লামেন্টের প্রশ্নোত্তর সেশনে উঠে আসে, তবে সরকারকে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হতে পারে।

অধিকন্তু, শফিকুরের মন্তব্যে উল্লেখিত তথ্যের পার্থক্য যদি মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়, তবে জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা হ্রাস পেতে পারে। এই পরিস্থিতি নির্বাচনী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিরোধী দলের এই পদক্ষেপকে কিছু বিশ্লেষক “রাজনৈতিক তীব্রতা বাড়ানোর একটি কৌশল” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, তবে শফিকুরের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দাবি করার একটি প্রচেষ্টা। ভবিষ্যতে যদি সরকার এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে না, তবে সংসদে আরও তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।

সারসংক্ষেপে, শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টে প্রেসিডেন্টের আগস্ট ৫, ২০২৪ ঘটনার তথ্য লুকানোর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে এবং এই বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভবিষ্যতে এই বিতর্ক কীভাবে বিকশিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে থাকবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments