26.5 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগয়েশ্বর চন্দ্র রায় সিঙ্গাপুরের স্বপ্নকে আজিমপুরের বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সিঙ্গাপুরের স্বপ্নকে আজিমপুরের বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা‑৩ নির্বাচনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মঙ্গলবার বিকেলে কেরানীগঞ্জ উপজেলার মিলনায়তনে স্থানীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় সরকারের নীতিমালা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের জন্য সিঙ্গাপুরের মতো মডেল গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তবে বাস্তবে দেশের অবস্থা আজিমপুরের মতোই রয়ে গেছে।

রায়ের মতে, স্বপ্নের পাশাপাশি বাস্তবায়নের দায়িত্বও সরকারের উপর রয়েছে। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের উদাহরণে উন্নয়ন পরিকল্পনা গৃহীত হলেও তা কার্যকর না হলে জনগণের জীবনযাত্রা অবনতি ঘটবে। এই প্রসঙ্গে তিনি সরকারের বর্তমান নীতি ও বাস্তবায়নের ফাঁককে তুলে ধরেন।

সেশন চলাকালীন রায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি জানিয়ে দেন, সাংবাদিক বা রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে কোনো তদবির গ্রহণ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে এবং সংসদে এই বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। তিনি এও উল্লেখ করেন, তদবির গ্রহণের ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানো হবে।

শিক্ষা ক্ষেত্রেও রায়ের সমালোচনা সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনা জরুরি, কারণ বর্তমানে শিক্ষিত বেকারদের সংখ্যা বাড়ছে। রায়ের মতে, অনেক স্কুল শিক্ষক নিজের সন্তানকে নিজে পড়াতে অক্ষম, যা শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে।

স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়েও রায়ের মন্তব্য শোনা যায়। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে হাসপাতাল, থানা এবং ফাঁড়ি মাদকের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। রায়ের মতে, জেলখানায়ও মাদক পাওয়া যায় এবং মাদক বাজারজাতকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

রায়ের বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতার পর থেকে দেশের শাসনব্যবস্থা সুষ্ঠু না হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি শিহরণময়ভাবে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের ছাত্র হিসেবে তিনি এখনই পরিবর্তনের সূচনা করতে চান।

বৈধভাবে গৃহীত নীতিমালা ও বাস্তবায়নের ফাঁক নিয়ে রায়ের এই মন্তব্যের পর, স্থানীয় কর্মকর্তারা কোনো তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে তিনি উল্লেখিত বিষয়গুলো সরকারী দপ্তরে আলোচনার বিষয় হতে পারে বলে অনুমান করা যায়।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এই বক্তব্যের পর, কেরানীগঞ্জের কিছু কর্মী ও নাগরিকরা তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করে, বিশেষ করে শিক্ষা ও মাদক সমস্যার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রায়ের মন্তব্যের রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট। তিনি বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেশের শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরেছেন, যা আসন্ন নির্বাচনের সময় বিরোধী দলের প্রচারাভিযানে ব্যবহার হতে পারে।

বিএনপি নেতারা রায়ের বক্তব্যকে পার্টির নীতি ও পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করতে পারেন, বিশেষ করে উন্নয়ন, শিক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বকে তুলে ধরতে।

অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে যদি কোনো ব্যাখ্যা না আসে, তবে রায়ের মন্তব্য জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে এবং পার্টিগুলোর মধ্যে নীতি-সংলাপকে তীব্র করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এই সেশনে উত্থাপিত বিষয়গুলো দেশের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গভীর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়, যা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments