বৈদেশিক মন্ত্রী ড. খালিলুর রহমান আগামীকাল (বুধবার) প্রাতঃকালীন সময়ে সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে রওনা হবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে এই সফর শুরু হবে। দুজনেই ওয়ার্ল্ড ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) সংস্থার বিদেশী মন্ত্রী-স্তরের জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছেন।
ওআইসি-র ওপেন-এন্ডেড এক্সিকিউটিভ কমিটি জরুরি সভা বৃহস্পতিবার জেদ্দার ওআইসি জেনারেল সেক্রেটারিয়েটে অনুষ্ঠিত হবে। এই সভা বিদেশী মন্ত্রী-স্তরে হবে এবং ইস্রায়েলি দখলকৃত পশ্চিম তীরের ওপর অবৈধ বসতি, সংযুক্তি এবং স্বৈরাচারী সার্বভৌমত্বের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আলোচনা করা হবে।
বৈঠকের পাশাপাশি ড. খালিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে তাদের সমমানের বিদেশী মন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সুযোগ হবে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার সৌদি আরবকে দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ১৯৭৬ সালে আনিসুর রহমান জিকোর রাষ্ট্রপতি কালীন সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাসের দরজা খোলা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে আনিসুর রহমান জিকো নিজেই সৌদি আরবের রাজ্যে সরকারি সফর করেন এবং মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধতা বাড়াতে তার ভূমিকা স্বীকৃত হয়।
সৌদি আরবের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে, এই সফর দুই দেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সংযোগকে আরও দৃঢ় করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ওআইসি বৈঠকে গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক গতিবিধিতে প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে ইস্রায়েল-ফিলিস্তিন বিষয়ক আলোচনায়।
ড. খালিলুর রহমানের প্রথম বিদেশি সফর হওয়ায়, তার উপস্থিতি বাংলাদেশ সরকারের আন্তর্জাতিক মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা প্রদর্শনের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে উপস্থিতি সরকারী নীতি ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের সমন্বয়কে শক্তিশালী করবে।
সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ফলাফল বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা বাড়িয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চায়।
বৈঠকের পর ড. খালিলুর রহমান এবং হুমায়ুন কবিরের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের সূচনা হতে পারে। বিশেষ করে ইস্রায়েলি দখলকৃত ভূখণ্ডের ওপর আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ওআইসি-র সমন্বিত পদক্ষেপগুলি বাংলাদেশের কূটনৈতিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে।
এই সফর ও বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে এবং মুসলিম বিশ্বের সংহতি বাড়াতে চায়। ভবিষ্যতে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে অবদান রাখবে।



