১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে লন্ডনের ফ্যাশন উইকে বাংলাদেশের ডিজাইনার তানভীর মাহিদি প্রথমবারের মতো মঞ্চে উপস্থিত হন। ম্যানচেস্টার ভিত্তিক এই ডিজাইনারের প্রদর্শনীতে ডেনিমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি সংগ্রহে পরিবেশগত সমস্যার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মাহিদি ২০১২ সালে বাংলাদেশের প্রস্তুত পোশাক শিল্পে ক্যারিয়ার শুরু করেন। তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প সংস্থা বেক্সিমকোর সঙ্গে কাজের সূচনা করেন এবং পরে নোইজ জিন্সে ডিজাইনার হিসেবে নিয়োগ পান।
নোইজ জিন্সে অর্জিত অভিজ্ঞতার পর তিনি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড জারার, ডিজেল, ক্যালভিন ক্লেইন, প্রিমার্ক এবং লেভিসের মতো নামকরা কোম্পানির সঙ্গে সহযোগিতা করেন। এসব প্রকল্পে তার কাজের গুণমান ও সৃজনশীলতা ব্যাপক স্বীকৃতি পায়।
ডেনিমের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি শুধুমাত্র ফ্যাশন ট্রেন্ডের সীমা অতিক্রম করে। তিনি ডেনিমের টেক্সটাইল ওজন ও টেকসইতা বিশ্লেষণ করে বলছেন, এই বৈশিষ্ট্যই গ্রাহকদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তার মূল কারণ।
ফ্যাশনের বাইরে তিনি বিখ্যাত বাংলাদেশি পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরীর সঙ্গে কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেছেন এবং বহু আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের টিভি বিজ্ঞাপনেও অবদান রেখেছেন। এই বহুমুখী অভিজ্ঞতা তার ভিজ্যুয়াল গল্প বলার ক্ষমতা ও রানের উপস্থাপনা শৈলীতে প্রভাব ফেলেছে।
লন্ডন ফ্যাশন উইকে তার প্রথম শোতে মাহিদি ডেনিমের পরিচয়কে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়ে উপস্থাপন করেন। তিনি ডেনিম উৎপাদনের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন, বিশ্বব্যাপী ডেনিম শিল্পের বর্জ্য নদীগুলোকে দূষিত করে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের নদীগুলোতে শিল্প বর্জ্যের দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় তার সংগ্রহের আবেগগত ভিত্তি গঠন করেছে। এই বিষয়টি তার ডিজাইনে রঙ, টেক্সচার ও প্যাটার্নের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
রানওয়ে মঞ্চে সূক্ষ্ম কারিগরি কাজ এবং সাহসী প্যাটার্নের সমন্বয় দেখা যায়। প্রতিটি পোশাকের নকশা ডেনিমের ঐতিহ্যবাহী চেহারাকে বজায় রেখে পরিবেশগত সচেতনতার বার্তা বহন করে।
শোটি শিল্প জগতের নজরে আনা হয়েছে এবং দর্শকরা ডেনিমের ঐতিহ্য ও টেকসইতা একসাথে উপভোগ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, মাহিদির কাজ ফ্যাশন ও পরিবেশ সংরক্ষণের সংযোগস্থলে নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করেছে।
এই debut লন্ডন ফ্যাশন উইকে বাংলাদেশের ডিজাইনারদের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তানভীর মাহিদির উপস্থিতি ভবিষ্যতে আরও বাংলাদেশি সৃষ্টিকর্তাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রবেশের পথ সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাহিদি ভবিষ্যতে ডেনিমের টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি অনুসন্ধান চালিয়ে যাবেন এবং তার সংগ্রহে পরিবেশগত দায়িত্বের বিষয়টি আরও গভীরভাবে অন্তর্ভুক্ত করবেন।
পাঠকরা তার পরবর্তী প্রকল্পের দিকে নজর রাখার পাশাপাশি টেকসই ফ্যাশনকে সমর্থন করার জন্য সচেতন পছন্দ করতে পারেন।



