ইচিকাওয়া সিটি চিড়িয়াখানা, জাপানে সাত মাসের জাপানি মাকাক (ম্যাকাক) পাঞ্চ, একটি কমলা রঙের অরাংগুটন রাবার টয়কে আলিঙ্গন করে অনলাইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পাঞ্চের এই আচরণটি সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার হওয়ার পর থেকে দেশ-বিদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ তার ছবি ও ভিডিও দেখেছেন।
পাঞ্চের জন্মের পরই তার মা তাকে ছেড়ে চলে যায়, ফলে তাকে চিড়িয়াখানার কর্মীরা লালন-পালন করে। ছোটবেলায় মাকাকেরা মায়ের স্নেহের ওপর নির্ভরশীল, তাই কর্মীরা পাঞ্চকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য একটি নরম খেলনা প্রদান করে। এই খেলনাটি মূলত একটি সুইডিশ কোম্পানি আইকিয়ার উৎপাদিত অরাংগুটন রাবার, যা পাঞ্চের জন্য নিরাপদ ও আকর্ষণীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি।
চিড়িয়াখানার বড় জায়গায় পাঞ্চ অন্যান্য বানরের সঙ্গে মেলামেশার চেষ্টা করে। কখনও সে খেলায় অংশ নিতে পারে, আবার কখনও অন্য বানররা তাকে ঠেলে দেয় বা উপেক্ষা করে। এই সামাজিক সংঘর্ষের ফলে পাঞ্চের আচরণে উদ্বেগের ছাপ দেখা যায়, যা প্রাকৃতিক বন্যপ্রাণীর গোষ্ঠীতে স্বাভাবিক।
যখন পরিবেশ অতিরিক্ত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে, পাঞ্চ দ্রুতই তার রাবার টয়টির দিকে ফিরে যায়। সে টয়টির নরম ফাইবারে মুখ ঢুকিয়ে শ্বাস নেয় এবং নিজেকে শান্ত করে। এই ধরনের স্ব-সান্ত্বনা পদ্ধতি বানরদের মধ্যে বিরল নয়, তবে পাঞ্চের ক্ষেত্রে এটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে ব্যাপক মনোযোগ পেয়েছে।
আইকিয়া এই খেলনাটিকে “পাঞ্চের আরামদায়ক অরাংগুটন” নামে বাজারজাত করেছে, তবে অনলাইন চাহিদা অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়ায় স্টক ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। কোম্পানি বর্তমানে এই পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতে সংগ্রাম করছে, কারণ অনেক ভক্ত একই খেলনা কিনে পাঞ্চের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চান।
জনসাধারণের পাঞ্চের প্রতি আকর্ষণের মূল কারণ হল তার আচরণ মানুষের শৈশবের স্মৃতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ছোটবেলায় অনেক শিশুরই কোনো না কোনো স্নেহের বস্তু থাকে—একটি টেডি ভাল্লুক, পুরনো কম্বল, বা নির্দিষ্ট একটি বালিশ—যা তাদের নিরাপত্তা ও সান্ত্বনা দেয়। পাঞ্চের টয়টি সেই স্মৃতিগুলিকে জাগিয়ে তুলেছে, ফলে মানুষ তার ছবি দেখে নিজস্ব শৈশবের স্নেহের বস্তুকে স্মরণ করে।
১৯৫০-এর দশকে আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী হ্যারি হ্যালো একই ধরনের পরীক্ষায় বানরদের মধ্যে স্নেহের বস্তু কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা দেখিয়েছিলেন। হ্যালোর গবেষণায় দেখা যায়, শারীরিক স্নেহের অভাবযুক্ত বানররা নরম বস্তুকে বেশি পছন্দ করে এবং তা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হয়। পাঞ্চের বর্তমান পরিস্থিতি হ্যালোর ফলাফলের আধুনিক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, পাঞ্চের আরামদায়ক খেলনা শুধুমাত্র একটি প্রাণীর স্ব-সান্ত্বনা পদ্ধতি নয়, এটি মানুষের শৈশবের স্নেহের স্মৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। আইকিয়ার পণ্যটি এখন বাজারে উচ্চ চাহিদা পেয়ে স্টক সংকটে রয়েছে, আর চিড়িয়াখানার কর্মীরা পাঞ্চের সামাজিক পরিবেশে সমর্থন প্রদান চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা দেখায় যে প্রাণীর আচরণ ও মানবিক অনুভূতির মধ্যে কতটা সূক্ষ্ম সেতু গড়ে ওঠে।



