আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রায়াল (আইসিটি) এর পূর্বপ্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আজ মিডিয়ায় লিখিত বিবৃতি দিয়ে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে খারিজ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং এই অভিযোগগুলো আইসিটি ট্রায়ালের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
তাজুলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা শহরের কিছু প্রকাশনা ও সামাজিক মাধ্যমে তার নামে এমন কিছু বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে, যা তিনি নিজেরই না বলে দাবি করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এসব দাবি কোনো বাস্তব ভিত্তি ছাড়া কেবল কল্পনা এবং সেগুলোকে দ্রুত থামাতে আহ্বান জানান।
এই অভিযোগের মূল সূত্র হিসেবে আইসিটি প্রসিকিউটর বি.এম. সুলতান মাহমুদ তাজুল এবং সহপ্রসিকিউটর গাজি মনাওয়ার হোসেন তামিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে তাজুলের মতে, এসব অভিযোগ তার পদত্যাগের পরই প্রকাশ পেয়েছে, যা তার কাজের স্বচ্ছতা ও আইনি নীতিমালা মেনে চলার বিরোধিতা করে না।
তাজুল তার দায়িত্বকালে সব কাজ স্বচ্ছভাবে এবং আইন অনুসারে সম্পন্ন করেছেন বলে জোর দেন। তিনি অতীতের কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এই অভিযোগগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে আইসিটি চলমান ও সমাপ্ত মামলাগুলোতে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, এবং এই মামলাগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার জন্যই এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
তাজুলের মতে, তার পদত্যাগের পরই এই অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয়েছে, যা অপরাধের শিকারদের ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার একটি কৌশল হতে পারে। তিনি বলেন, এই ধরনের কল্পিত অভিযোগের মাধ্যমে অপরাধী ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার থেকে রক্ষা পেতে চাওয়া হচ্ছে এবং ট্রায়ালের পুরো প্রক্রিয়াকে অবিশ্বাস্য করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি সকল সংশ্লিষ্টকে অনুরোধ করেন যে, কোনো ভিত্তিহীন অভিযোগ বা গুজব ছড়িয়ে না দেওয়া হোক, কারণ এ ধরনের কাজ আইসিটি ট্রায়ালের অগ্রগতি ও স্বচ্ছতাকে ক্ষতি করতে পারে। তাজুলের বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সত্যিকারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সকলেরই দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।
আইসিটি বর্তমানে ডিপোজড সরকারী সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, এবং তাজুলের এই বিবৃতি ট্রায়ালের চলমান প্রক্রিয়ার ওপর কোনো প্রভাব না ফেলে, বরং তার স্বচ্ছতা ও আইনি ভিত্তি বজায় রাখার জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ঘটনার পর আইসিটি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রমাণের দাবি করবে, যাতে ট্রায়ালের অখণ্ডতা রক্ষা পায় এবং বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।



