চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ দপ্তরে একটি ব্রিফিংয়ে জানালেন, রাজসাক্ষী তৈরি করতে প্রসিকিউশন টিমের সদস্যদের মধ্যে ঘুষের অভিযোগের সম্পূর্ণ তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল‑মামুনকে রাজসাক্ষী করার প্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই করার কথা উল্লেখ করেন।
ব্রিফিংয়ে তিনি জোর দিয়ে বললেন, যদি কোনো প্রসিকিউটর অনিয়মে জড়িত পাওয়া যায় তবে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই নির্দেশনা ট্রাইব্যুনালের সকল কর্মচারীর জন্য স্পষ্ট সতর্কতা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
অধিকন্তু, জুলাই ২০২১-এ সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোর তদন্তের সঠিকতা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বলে তিনি জানালেন। তদন্তে কোনো ত্রুটি বা গাফিলতি প্রকাশ পেলে, আইনি সুযোগের মধ্যে থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, ট্রাইব্যুনালের সব প্রসিকিউশন টিমের সদস্যদের সঙ্গে একটি বিস্তৃত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনি দলের সদস্যদেরকে বর্তমান মামলার সামগ্রিক অবস্থা, বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের মামলাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে নির্দেশ দেন।
বৈঠকে তিনি টিমকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেন, যাতে তদন্তের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া তিনি সকল সদস্যকে অনৈতিক আচরণ থেকে বিরত থাকতে এবং আইনি নীতিমালা মেনে চলতে আহ্বান জানান।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদার গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এই অভিযোগ অন্য এক প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদের দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
বি এম সুলতান মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামীমের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অস্বচ্ছতা ও ঘুষের অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, তামীমের কিছু আর্থিক লেনদেন স্বচ্ছ নয় এবং তা আইনি তদন্তের আওতায় আনা উচিত।
এই অভিযোগের প্রকাশের পর, ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের শেষ কর্মদিবসের পর বিষয়টি জনসাধারণের নজরে আসে। তাজুল ইসলামের অবসর গ্রহণের পর এই তথ্য মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
দু’টি আলাদা দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগের সমন্বয় ট্রাইব্যুনালের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি জনসাধারণের আস্থা পরীক্ষা করে। উভয় মামলায় যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে চিফ প্রসিকিউটর জোর দেন।
প্রসিকিউশন টিমের সদস্যদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে কোনো তথ্য গোপনীয়তা লঙ্ঘন না করে, সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করে দ্রুত তদন্তে সহায়তা করতে। একই সঙ্গে তারা আইনি প্রক্রিয়ার সঠিকতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে।
ট্রাইব্যুনালের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য এই দুইটি তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি ঘুষের অভিযোগ নিশ্চিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি প্রক্রিয়াগত সংস্কারও করা হবে।
অপরদিকে, জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় যদি কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়, তবে পুনরায় তদন্ত বা মামলার পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল ন্যায়বিচারের মূল নীতি বজায় রাখতে চায়।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম শেষ করে বললেন, ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য সকল স্তরে কঠোর তদারকি ও আইনি শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে। তিনি সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান, যাতে দেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের মোকাবিলায় কোনো ব্যতিক্রম না থাকে।



