স্লোভেনিয়ান ফরোয়ার্ড বেনজামিন সেস্কো, ২২ বছর বয়সী, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আক্রমণ লাইনে ধারাবাহিকভাবে বেঞ্চ থেকে গেম পরিবর্তনকারী গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করছেন। তবে তিনি এখনও স্টার্টিং স্থান নিশ্চিত করার জন্য নিজেকে চাপ দিচ্ছেন না, বরং কোচের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ধৈর্য ধরছেন। তার এই মনোভাব দলীয় পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং ভক্তদের কাছেও প্রশংসা পাচ্ছে। সেস্কোর এই পদ্ধতি তার ক্যারিয়ারের শুরুর বছরগুলোতে গড়ে ওঠা পেশাদারিত্বের প্রতিফলন, যেখানে তিনি প্রতিটি সুযোগকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করার লক্ষ্য রাখেন।
গত সোমবার এভারটনের বিরুদ্ধে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ১-০ জয়ে সেস্কো ৭১মিনিটে পরিবর্তে প্রবেশ করে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন। তার এই গোলটি দলকে তৃতীয়বারে চারটি ম্যাচের মধ্যে বেঞ্চ থেকে স্কোর করার সুযোগ দিয়েছে, যা তার আক্রমণ দক্ষতার স্পষ্ট প্রমাণ। ম্যাচের শেষের দিকে তিনি সঠিক সময়ে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে দৌড়ে গিয়ে পাসটি গ্রহণ করে সঠিক কোণায় শট মারেন, যা গেটারকে অতিক্রম করে নেটের পিছনে গিয়ে গেমটি শেষ করে।
দুই সপ্তাহ আগে ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে ১-১ ড্রেতে সেস্কো ৯৬তম মিনিটে সমতা রক্ষা করেন। তিনি অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে দূর থেকে শট মারেন, যা গেটারকে ছুঁয়ে নেটের পিছনে গিয়ে স্কোর করে। এই গোলটি দলকে পয়েন্ট সঞ্চয় করতে সাহায্য করে এবং সেস্কোর দ্রুত প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা ও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রভাবশালী ভূমিকা তুলে ধরে।
১ ফেব্রুয়ারি ফুলহ্যামের বিরুদ্ধে ৩-২ জয়ে সেস্কো ৯৩তম মিনিটে জয়ী গোল করেন। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে তিনি ডিফেন্ডারদের পিছনে দিয়ে পাস পান এবং একা শট দিয়ে গেটারকে অতিক্রম করে নেটের পিছনে গিয়ে স্কোর করেন। এই গোলটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে শেষ মুহূর্তে জয় নিশ্চিত করে এবং সেস্কোর ক্লাচ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা দেখায়।
সেস্কো বলেন, “আমি কখনও ‘আমি স্টার্ট করতে হবে’ এমন চিন্তা করি না। কোচ যখন আমাকে মাঠে রাখবেন, তখন আমি প্রস্তুত থাকব। পাঁচ মিনিটই দিলেই আমি সেগুলো সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করব এবং দলের জন্য ফলপ্রসূ খেলতে চেষ্টা করব।” তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তিনি সময়ের পরিমাণের চেয়ে পারফরম্যান্সে বেশি গুরুত্ব দেন এবং প্রত্যেক সুযোগকে মূল্যায়ন করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “মাইকেল ক্যারিক এবং পুরো কোচিং স্টাফ আমাকে বিশ্বাস করে। তারা আমাকে শীঘ্রই স্টার্টার হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চাপকে আমি গৌরবের অংশ হিসেবে দেখি; উচ্চ স্তরে খেলতে হলে চাপ থাকা স্বাভাবিক এবং তা আমাকে উন্নত করতে সাহায্য করে।” সেস্কোর এই দৃষ্টিভঙ্গি তার মানসিক দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বকে তুলে ধরে, যা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আক্রমণ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইন্টারিম ম্যানেজার মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড শেষ ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে ১৮ পয়েন্টের মধ্যে ১৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে, যা দলকে টেবিলে উপরে রাখে। সেস্কো দলের মনোভাবকে “খুবই ভালো” বলে বর্ণনা করেন এবং কোচিং স্টাফের কাজের প্রশংসা করেন, বিশেষ করে ক্যারিকের পাশাপাশি সহায়ক কোচদের অবদানকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি খেলোয়াড়ের উপর আলাদা দৃষ্টি দিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যা আমাদের পারফরম্যান্সকে উন্নত করছে।”
সেস্কোর ধৈর্যশীল মনোভাব এবং বেঞ্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোল করার ক্ষমতা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আক্রমণ লাইনে অতিরিক্ত বিকল্প যোগ করেছে। তিনি দলকে জয় অর্জনে সহায়তা করতে প্রস্তুত, যদিও এখনো স্টার্টিং স্থান নিশ্চিত হয়নি। ভবিষ্যতে তিনি আরও বেশি সময় পেতে পারেন, তবে বর্তমান সময়ে তার লক্ষ্য হল প্রতিটি মিনিটে সর্বোচ্চ অবদান রাখা এবং দলের জয় নিশ্চিত করা।



