শামীম হোসেন, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) স্বাধীন ভিপি প্রার্থী হিসেবে পরিচিত, ২৪ ফেব্রুয়ারি তার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে প্রকাশিত পোস্টে নিজে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার বিভাগে লেকচারার পদে যোগ দিয়েছেন।
পোস্টে তিনি আলহামদুলিল্লাহ বলে ধন্যবাদ জানিয়ে উল্লেখ করেছেন যে তিনি এখন ডিপার্টমেন্টে ‘লেকচারার’ হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। এই তথ্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি ও তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যমের পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে।
শামীমের শিক্ষাগত পটভূমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে শেষ পর্যন্ত গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করেছেন। তার শিক্ষাজীবনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে তিনি এখন নর্দান ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা দেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য নাম।
শামীমের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও নজরে এসেছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে স্বাধীনভাবে ভিপি (সহ-সভাপতি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ৩,৮৮৪ ভোটের মাধ্যমে এই পদে নির্বাচিত হন। বড় কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানার ছাড়া, তার স্বতন্ত্র ভাষা ও ভিন্নধর্মী ইশতেহার তাকে ছাত্রদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
ডাকসু নির্বাচনে শামীমের সাফল্যকে বিশ্লেষণ করা হলে দেখা যায়, তার ‘সুন্দর বাচনভঙ্গি’ এবং সরলতায় ভরপুর প্রচারাভিযানই মূল কারণ। প্রচলিত দলীয় গঠন না থাকলেও তিনি স্বতন্ত্রভাবে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হন, যা তার নেতৃত্বের গুণাবলিকে তুলে ধরে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে তার নতুন দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গে, শামীমের ছাত্র সংসদে অর্জিত অভিজ্ঞতা তার শিক্ষাদানে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে কিছু বিশ্লেষণ করা যায়। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের উন্নতি, সমালোচনামূলক চিন্তাধারার বিকাশ এবং ক্যাম্পাসে সক্রিয় আলোচনার পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার পূর্বের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সহায়ক হতে পারে।
নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে শামীমের যোগদান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলীর বৈচিত্র্য বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে তার গবেষণা ও শিক্ষাদানের পদ্ধতি নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য সমৃদ্ধ শিক্ষার সুযোগ তৈরি করবে।
শামীমের ফেসবুক পোস্টে তিনি আলহামদুলিল্লাহ বলে তার নতুন পদে কাজ শুরু করার আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই প্রকাশনা তার সামাজিক মিডিয়া অনুসারীদের কাছেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।
শিক্ষা ও ছাত্র রাজনীতির সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে শামীমের ক্যারিয়ার একটি উদাহরণস্বরূপ মডেল হতে পারে। তার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষার্থীরা কী শিখতে পারে, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শামীমের নতুন পদে কাজ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে, শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শও উপস্থাপন করা যায়। প্রথমত, শিক্ষকের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং ক্লাসে আলোচনায় অংশগ্রহণ করা উচিত। দ্বিতীয়ত, শিক্ষকের গবেষণা ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত অতিরিক্ত পাঠ্যবস্তু পড়ে জ্ঞান বিস্তৃত করা যায়। তৃতীয়ত, ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে বাস্তবিক দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব।
শামীম হোসেনের এই নতুন দায়িত্বের সূচনা শিক্ষাক্ষেত্র ও ছাত্র রাজনীতির মেলবন্ধনকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ দিচ্ছে। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও শিক্ষাদানের পদ্ধতি কীভাবে বিকশিত হবে, তা সময়ের সাথে সাথে স্পষ্ট হবে।
আপনার মতামত কী? আপনি কি মনে করেন শিক্ষকের রাজনৈতিক পটভূমি শিক্ষাদানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে? মন্তব্যে আপনার ধারণা শেয়ার করুন।



