ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলায় প্রতিবন্ধী এক নারীর ওপর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের নাম প্রকাশিত হয়েছে; শশীগঞ্জ গ্রাম, চাঁদপুর ইউনিয়নের মো. রাকিব (বয়স ৩০) ও মো. জুয়েল (বয়স ৩৫) এবং মাওলাকান্দি এলাকার আল-আমিন উপনাম সম্রাট (বয়স ২০)।
গ্রেপ্তারগুলো তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলায় বিভিন্ন স্থান থেকে সম্পন্ন হয়েছে, তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারভাইজার মো. ইব্রাহিম (ভোলা সদর সার্কেল) জানিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে পরে ভোলা জেলার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোলার তজুমদ্দিন থানা-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ভুক্তভোগীর পিতার নাম উল্লেখ করে চারজন সন্দেহভাজনের নাম ও দুইজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের পাশাপাশি র্যাসেল ও শাকিল নামের দুইজন অপরাধী এখনও পলাতক।
মামলার সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতের দিকে তজুমদ্দিনে একটি ধর্মীয় কীর্তন অনুষ্ঠান শেষ করে নারী ব্যাটারিচালিত অটো রিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন। পথে একটি সুপারিবাগানে তাকে মারধর করে, পরে একাধিক ব্যক্তি একসাথে ধর্ষণ করেন।
পরের দিন, সোমবার সকালে, নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় তজুমদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তার পরবর্তী চিকিৎসার জন্য তাকে ভোলা সদর জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বিভাগে ভর্তি করা হয়।
তজুমদ্দিন থানার ওসি আব্দুস সালাম গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা স্বীকারের তথ্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অন্যান্য সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করার জন্য অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে ভোলা জেলায় পাঠানোর পর, তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ও শর্তাবলী আদালত নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে, পুলিশ অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করে আরও সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করার পরিকল্পনা করছে।
ভোলা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ এই ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ভুক্তভোগীর সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মামলায় উল্লেখিত র্যাসেল ও শাকিলের সন্ধান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তারা এখনও পলাতক এবং তাদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ অভিযান চালু রয়েছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় সমাজে নিরাপত্তা ও নারীর সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা তীব্রতর হয়েছে। তজুমদ্দিনের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এই ধরনের অপরাধের শূন্য সহনশীলতা দাবি করে প্রতিবাদসূচক র্যালি ও সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে।
আইনগত দিক থেকে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে দায়ের করা মামলায় সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পর আদালতে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই মামলায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে, যাতে ভুক্তভোগীর অধিকার রক্ষা পায় এবং সমাজে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা পুনর্গঠিত হয়।



