নিলফামারীর সৈয়দপুর শহরের হানিফ মোড়ে অবস্থিত শেখ জামিল হোটেল রমজান মাসে বিশেষ উদ্যোগ চালু করেছে। হোটেলটি প্রতিদিন মাত্র ৩০ টাকায় মুরগি বিরিয়ানি বিক্রি করছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল রমজানের পবিত্র মাসে নিম্নআয়ের পরিবারের খাবারের ব্যয় কমানো।
হোটেলটির মালিক জামিল হোসেন জানান, রমজানে খাবারের দাম বাড়ার ফলে দরিদ্র গোষ্ঠীর জন্য খাবার কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তিনি স্বল্পমূল্যে মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ বিরিয়ানি প্রস্তুত করে মজুদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি চালিয়ে যান।
প্রতিদিন দুপুরের দিকে হোটেলের সামনে দীর্ঘ লাইন গড়ে ওঠে। রিকশা চালক, শ্রমিক, ছাত্র, পথচারী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ একত্রে বিরিয়ানি কিনতে অপেক্ষা করে। লাইনটি কখনও কখনও একশো জনেরও বেশি হয়ে যায়, যা স্থানীয় বাজারে এই সেবার চাহিদা স্পষ্ট করে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রমজানে খাবারের দাম সাধারণত ১০-১৫ শতাংশ বাড়ে, ফলে স্বল্পমূল্যের বিকল্পের চাহিদা তীব্র হয়। ৩০ টাকায় মুরগি বিরিয়ানি সরবরাহ করে হোটেলটি এই চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়েছে এবং একই সঙ্গে তার ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী করেছে।
হোটেলটি ১১ মাসের ব্যবসা চালিয়ে আসছে এবং এই সময়ে তার গ্রাহক ভিত্তি ক্রমাগত বিস্তৃত হয়েছে। স্বল্পমূল্যের অফারটি শুধুমাত্র রমজানে সীমাবদ্ধ নয়, তবে মালিকের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে অন্যান্য ঋতুতে একই মডেল পরীক্ষা করা হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু পোস্টে হোটেলের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং অনেকেই এ ধরনের উদ্যোগকে অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অনুকরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, স্বল্পমূল্যের খাবার বিক্রি করে হোটেলটি উচ্চ পরিমাণে বিক্রয় অর্জন করে, যা মোট আয় বাড়াতে সহায়তা করে। তবে মুনাফা মার্জিন কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, বিশেষ করে মুরগি ও চালের দাম বাড়লে খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে।
সুস্থতা ও গুণমান বজায় রাখতে হোটেলটি কাঁচামাল সরবরাহে স্থানীয় বাজারের ওপর নির্ভরশীল, যা সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় মালিক অতিরিক্ত মজুদ রাখা বা বিকল্প সরবরাহকারী খোঁজার পরিকল্পনা করছেন।
সামগ্রিকভাবে, ৩০ টাকায় মুরগি বিরিয়ানি বিক্রির মডেলটি রমজানের সময়ে চাহিদা পূরণে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে এবং হোটেলের বাজার অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে মূল্য স্থিতিশীলতা ও সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে মুনাফা হারানোর সম্ভাবনা রয়ে যায়। ভবিষ্যতে যদি এই মডেলটি অন্যান্য ঋতুতে প্রসারিত করা হয়, তবে মূল্য নির্ধারণে নমনীয়তা এবং খরচ নিয়ন্ত্রণের কৌশলই মূল চাবিকাঠি হবে।



