রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার রাত ২০ ফেব্রুয়ারি, বাংলা ভবনে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বিএনপি যদি তার পদধারণা সমর্থন করে তবে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, আর যদি না করে তবে সম্মানজনকভাবে পদত্যাগ করবেন। এই মন্তব্যটি দৈনিক কালের কণ্ঠের সঙ্গে তার সাক্ষাৎকারের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে; প্রথম অংশ সোমবার ২২ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ অংশ মঙ্গলবার ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকারের সময় সাংবাদিকরা বিএনপির সম্ভাব্য দাবি সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন, বিশেষত যদি দলটি নিজের পছন্দের রাষ্ট্রপতি চায় বা বর্তমান রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অবমাননা চালায়। এসব প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এমন কোনো পরিস্থিতি স্বীকার করতে ইচ্ছুক নন এবং তার পদধারণা নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না।
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি একজন সচেতন ব্যক্তি; যদি তারা আমাকে রাখতে চায়, আমি থাকব। আর যদি তারা সরে যাওয়া ভালো বলে মনে করে, তবে আমি সম্মানজনকভাবে সরে যাব।” এই বক্তব্যে তিনি নিজের স্বায়ত্তশাসন ও রাজনৈতিক দায়িত্বের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, যা তার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার ইঙ্গিত দেয়।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, “যদি কোনো দল আমাকে অপমানের স্তরে নিয়ে যায়, আমি তা সহ্য করব না।” তিনি নিজের অবস্থানকে স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করে, রাজনৈতিক দলের চাপে তার সিদ্ধান্তের স্বায়ত্তশাসনকে জোর দেন। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছেন।
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছেন। যদি বিএনপি তার পদত্যাগের আহ্বান জানায়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক সমতা ও শাসনব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন। অন্যদিকে, যদি দলটি তার উপস্থিতি সমর্থন করে, তবে বর্তমান সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়তে পারে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
বিএনপি পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। দলটি এখনও তার অবস্থান স্পষ্ট করে না, তবে ভবিষ্যতে তার মন্তব্যের ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সমঝোতা দেশের শাসনব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
সারসংক্ষেপে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের এই বক্তব্য দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের স্বায়ত্তশাসন ও রাজনৈতিক দলের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। তার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে কী ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



