গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার সড়কে আগুন জ্বালানোর অভিযোগে পাটগাতী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাবিব মুন্সী (৫৫) এবং উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মুকুল মুন্সী (৫০)কে আদালত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) অপরাধমূলক দফা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।
গ্রেফতারটি সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে পাটগাতী বাজার এলাকা থেকে করা হয়। টুঙ্গিপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত দুইজনকে একই রাতে স্থানীয় পুলিশ দল দ্বারা আটক করা হয়।
হাবিব মুন্সী আওয়ামী লীগের পাটগাতী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং মুকুল মুন্সী উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত। উভয়ই স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন এবং পূর্বে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের রেকর্ড রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠি ব্যবহার করে সড়কে আগুন জ্বালানো হয়। এই কাজটি জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটায়।
টুঙ্গিপাড়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটি থানা এসআই মনির হোসেনের তত্ত্বাবধানে রেজিস্টার করা হয় এবং অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে অভিযুক্তরা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হিসেবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
আদালত মঙ্গলবার বিকালে গ্রেফতারকৃত দুই নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় রিজার্ভেশন না দিয়ে তাদের জেলখানায় পাঠানোর আদেশ দেয়। বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এই ঘটনার পটভূমিতে গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর টুঙ্গিপাড়া অঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে অনধিকারিক অস্ত্র ও লাঠি ব্যবহার করে সড়কে আগুন জ্বালানোর প্রচেষ্টা দেখা যায়। রায়ের পরপরই এই ধরনের কার্যকলাপের প্রতিবাদ হিসেবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
অধিকন্তু, গত বছরের ২০ নভেম্বর টুঙ্গিপাড়া থানায় ৪৬ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ মামলা দায়ের করা হয়। এতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের সদস্যদের নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং মূল অভিযুক্ত হিসেবে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সোহানকে উল্লেখ করা হয়।
সেই মামলায় মোট ২১ জনের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আর অতিরিক্ত ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক কর্মী এবং স্থানীয় সংগঠনের সদস্য অন্তর্ভুক্ত।
টুঙ্গিপাড়া থানার সূত্রে জানা যায়, বর্তমান মামলায় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলমান এবং তদন্তকৃত সকল প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে।
পরবর্তী আদালত শুনানিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও কোন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা নির্ধারিত হবে। যদি অতিরিক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে অতিরিক্ত অভিযোগ যোগ করা হতে পারে।
এই ঘটনাগুলি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনের ওপর প্রভাব ফেলেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন জনশান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।



