30.5 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনরবার্ট ক্যারাডিনের ৭১ বছর বয়সে আত্মহত্যা, মানসিক রোগের সঙ্গে লড়াই শেষ

রবার্ট ক্যারাডিনের ৭১ বছর বয়সে আত্মহত্যা, মানসিক রোগের সঙ্গে লড়াই শেষ

অভিনেতা রবার্ট ক্যারাডিন, যিনি ১৯৭০‑এর শেষ দিক থেকে ২০০০‑এর দশকে টেলিভিশন ও সিনেমায় সক্রিয় ছিলেন, ৭১ বছর বয়সে আত্মহত্যা করে মারা গেছেন। তার মৃত্যু সংবাদ তার পরিবার থেকে প্রকাশিত হয় এবং শিল্প জগতে শোকের স্রোত বইছে।

পরিবারের বিবৃতি অনুযায়ী, ক্যারাডিন প্রায় দুই দশক ধরে দ্বিধ্রু রোগে (বাইপোলার ডিসঅর্ডার) ভুগছিলেন এবং শেষ মুহূর্তে নিজের জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই তথ্য প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানসিক রোগের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো এবং রোগী ও তাদের পরিবারকে সমর্থন দেওয়া।

ক্যারাডিনের ভাই কিথ পরিবারকে প্রতিনিধিত্ব করে উল্লেখ করেন, মানসিক রোগের সঙ্গে যুক্ত কলঙ্ক দূর করা জরুরি এবং রোগীকে কোনো লজ্জা অনুভব করা উচিত নয়। তিনি এ বিষয়টি মিডিয়ায় প্রকাশ করে রোগী ও তাদের প্রিয়জনদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে চেয়েছেন।

লিজি ম্যাকগুইর সিরিজের প্রধান অভিনেত্রী হিলারি ডাফ, যাকে ক্যারাডিন স্ক্রিনে পিতা চরিত্রে দেখেছেন, ইনস্টাগ্রামে তার শোক প্রকাশ করেন। তিনি লিখে জানান, পুরনো বন্ধুর বাস্তবতা মেনে নেওয়া কঠিন এবং ক্যারাডিনের স্মৃতি তার হৃদয়ে চিরস্থায়ী থাকবে।

রবার্ট ক্যারাডিনের জন্ম ২৪ মার্চ ১৯৫৪ সালে, তিনি জ্যোতি শিল্পের বিশিষ্ট পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জন ক্যারাডিন এবং ভাই ডেভিড ও কিথ ক্যারাডিনও সফল অভিনেতা, যা তাকে শৈশব থেকেই শিল্পের সঙ্গে পরিচিত করে।

প্রথমবার বড় পর্দায় তার উপস্থিতি ঘটে ১৯৭২ সালের জঁ ওয়েনের চলচ্চিত্র “দ্য কাউবয়স”-এ, যেখানে তিনি ছোটো ভূমিকা পালন করেন। এই সুযোগটি তার ক্যারিয়ারের সূচনা করে এবং পরবর্তীতে তিনি আরও বড় প্রকল্পে কাজের সুযোগ পান।

১৯৭৩ সালে মার্টিন স্কোরসেসের “মিন স্ট্রিটস” এবং ১৯৭৮ সালের অস্কার বিজয়ী “কমিং হোম”-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি শিল্পের স্বীকৃতি অর্জন করেন। এই সময়ে তিনি জেন ফোন্ডারসহ বহু বিশিষ্ট শিল্পীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

১৯৮০ সালে “দ্য লং রাইডার্স” এবং একই বছর “দ্য বিগ রেড ওয়ান”-এ তার পারফরম্যান্স দর্শকদের প্রশংসা পায়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে কুয়েন্টিন টারান্টিনোর “ডজ্যাংগো আনচেইনড”-এ ছোটো ভূমিকা করে তিনি আবারও আধুনিক সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হন।

ক্যারাডিনের সবচেয়ে পরিচিত চরিত্র হল ১৯৮৪ সালের কমেডি “রেভেঞ্জ অফ দ্য নার্ডস”-এ লুইস স্কোলনিক, যাকে তিনি উজ্জ্বলভাবে উপস্থাপন করেন। এই ভূমিকা তাকে ১৯৮০‑এর দশকের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র সিরিজের আইকন করে তুলেছিল।

২০০০‑এর দশকে তিনি ডিজনি চ্যানেলের জনপ্রিয় সিরিজ “লিজি ম্যাকগুইর”-এ লিজির পিতা চরিত্রে অভিনয় করেন, যা তরুণ দর্শকদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছিল। তার উষ্ণ ও স্নেহপূর্ণ পারফরম্যান্সকে বহু ভক্ত স্মরণীয় করে রাখে।

হিলারি ডাফ ক্যারাডিনের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “ম্যাকগুইর পরিবারের মধ্যে এত উষ্ণতা ছিল এবং আমি সবসময় আমার স্ক্রিনের পিতার কাছ থেকে স্নেহ পেয়েছি।” তিনি ক্যারাডিনের কষ্টের কথা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেন এবং তার পরিবার ও ভক্তদের প্রতি সমবেদনা জানান।

ক্যারাডিনের পরিবার তার মৃত্যুর সংবাদ গভীর শোকের সঙ্গে প্রকাশ করে, তাকে প্রিয় পিতা, দাদা, চাচা এবং ভাই হিসেবে বর্ণনা করে। তারা উল্লেখ করে, অন্ধকারময় পৃথিবীতে তিনি সর্বদা আশার আলো হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং তার অনুপস্থিতি একটি বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।

পরিবারের শেষ মন্তব্যে বলা হয়েছে, ক্যারাডিনের আত্মিক উজ্জ্বলতা এবং মানবিক গুণাবলি তার পরিবার ও বন্ধুদের জন্য অনুপ্রেরণা ছিল। তিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত সবার জন্য একটি আলোকবিন্দু ছিলেন এবং তার স্মৃতি চিরকাল বেঁচে থাকবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। ক্যারাডিনের পরিবার এবং শিল্প জগতের সহকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়ে রোগী ও তাদের পরিবারকে সমর্থন ও সম্মান দেওয়া হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments