মন্ত্রিপরিষদ গৃহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আজ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অতিরিক্ত পরিদর্শক জেনারেল ও সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) প্রধান মোঃ আলি হোসেন ফকিরকে নতুন বাংলাদেশ পুলিশ প্রধান (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শীর্ষ পুলিশ পদে পরিবর্তন ঘটেছে, যা দেশের নিরাপত্তা নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলবে।
মোঃ আলি হোসেন ফকির বর্তমানে অতিরিক্ত পরিদর্শক জেনারেল পদে কর্মরত এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গৃহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়ে এই উচ্চতর পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন, যা তার পূর্ববর্তী দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
ফকির ১৫তম ব্যাচের বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পুলিশ) ক্যাডারের সদস্য। তিনি বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা, যা তার স্থানীয় পরিচয় ও সামাজিক পটভূমি স্পষ্ট করে। তার ক্যারিয়ার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে সেবা প্রদান করে তিনি পুলিশ সংস্থার অভ্যন্তরে গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
আগস্ট ২০২৫ সালে, অস্থায়ী সরকারের অধীনে মোঃ আলি হোসেনকে ডিপুটি পরিদর্শক জেনারেল (ডিআইজি) পদ থেকে অতিরিক্ত পরিদর্শক জেনারেল (সুপারনুমেরি) পদে উন্নীত করা হয়। এই পদোন্নতি তার কর্মক্ষমতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তার বর্তমান নিয়োগের ভিত্তি গঠন করে।
নতুন প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের আগে, বর্তমান বাংলাদেশ পুলিশ প্রধান বাহারুল আলমের পদত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। বাহারুল আলমকে ২০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে এই পদে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং তিনি প্রায় এক বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পরিবর্তে ফকিরের নিয়োগ সংস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর, মোঃ আলি হোসেন ফকিরকে শীঘ্রই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন প্রধানের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত করা হবে। শপথ অনুষ্ঠান সাধারণত গৃহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং তা সরকারী রেকর্ডে নথিভুক্ত হয়।
ফকিরের নতুন দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গে, বাংলাদেশ পুলিশের কৌশলগত পরিকল্পনা ও অপারেশনাল দিকগুলোতে কিছু পরিবর্তন প্রত্যাশিত। যদিও নির্দিষ্ট নীতি বা কর্মসূচি এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে তার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ধরনকে ভিত্তি করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
গৃহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই নিয়োগের মাধ্যমে পুলিশ শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে চায়। ফকিরের পূর্ববর্তী পদে অর্জিত অভিজ্ঞতা, বিশেষত সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বে, তাকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় দক্ষ করে তুলেছে।
নতুন প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর, তিনি তৎক্ষণাৎ উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পুলিশ কার্যক্রমের তদারকি করবেন। এছাড়া, তিনি গৃহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবেন।
এই পরিবর্তনটি দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, নতুন প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর পুলিশ সংস্থার অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও বাহ্যিক সহযোগিতা উভয়ই শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অবশেষে, মোঃ আলি হোসেন ফকিরের নতুন ভূমিকা দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ কীভাবে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



