সচিবালয়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মঙ্গলবার পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সরকারের জনগণের মঙ্গলে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সভা দেশের বিভিন্ন নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন প্রকল্পের ত্বরান্বিত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কৃষি, খাদ্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন।
সভায় মন্ত্রী জোর দিয়ে বললেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় খাল খনন কর্মসূচি দেশের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে এক বিপ্লব ঘটিয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ঐ কর্মসূচির দৃশ্যমানতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে তিন দিনের মধ্যে বিশদ কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
খাল খননকে টেকসই করার জন্য মন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের জীবিকা উন্নত হবে এবং জল সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের ভিত্তিতে আগামী পাঁচ বছরে ২০,০০০ কিলোমিটার খাল খনন এবং পাঁচ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, খাল খনন প্রকল্পের নেতৃত্বে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।
আজাদ অতিরিক্তভাবে বর্তমান অর্থবছর এবং পরবর্তী বছরগুলোতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কাজের সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বললেন, পানি সম্পদ, কৃষি, স্থানীয় সরকার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়গুলো একসঙ্গে কাজ করে এই বৃহৎ প্রকল্পের সফলতা নিশ্চিত করবে।
মন্ত্রিসভা এই সমন্বিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি ধাপের সময়সূচি নির্ধারণ করবে এবং ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তহবিলের বরাদ্দ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
প্রকল্পের ত্বরান্বিত বাস্তবায়নকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ এটি গ্রামীণ ভোটারদের সরাসরি উপকারে আসবে এবং সরকারের উন্নয়নমূলক অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন হিসেবে গণ্য হবে। সরকার এই উদ্যোগকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে তুলে ধরে, যা আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক সমর্থন বাড়াতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি, বৃহৎ বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ পরিকল্পনা একত্রে বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে ত্রিশ দিনের মধ্যে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে, যাতে প্রকল্পের সূচনা দ্রুত হয় এবং লক্ষ্য অর্জনে কোনো বিলম্ব না থাকে।
এই উদ্যোগের সফলতা দেশের জল সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদনশীলতা এবং গ্রামীণ জীবনের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।



