30.5 C
Dhaka
Tuesday, February 24, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাঅ্যাপল যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাক মিনি উৎপাদন শুরু করবে

অ্যাপল যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাক মিনি উৎপাদন শুরু করবে

অ্যাপল আগামী বছর শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন এলাকায় নতুন কারখানা চালু করে ম্যাক মিনি উৎপাদন শুরু করবে। এই পদক্ষেপটি দেশীয় বাজারের চাহিদা পূরণের জন্য নেওয়া হয়েছে এবং কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদন কৌশলের অংশ।

হিউস্টন ফ্যাসিলিটিতে বর্তমানে একটি খালি গুদাম রয়েছে, যা ২২০,০০০ বর্গফুটের উৎপাদন স্থানে রূপান্তর করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই জায়গা থেকে কমপ্যাক্ট ডেস্কটপ কম্পিউটারগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাবে।

এই সুবিধা ইতিমধ্যে ফক্সকন দ্বারা পরিচালিত, যেখানে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের জন্য সার্ভার সমাবেশ করা হয়। ফ্যাক্টরির বিদ্যমান অবকাঠামো নতুন ম্যাক মিনি লাইন চালু করার জন্য ব্যবহার করা হবে।

অ্যাপল এই উদ্যোগকে গত বছর ঘোষিত $৫০০ বিলিয়ন বিনিয়োগের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা চার বছর মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পন্ন হবে। এই বড় আর্থিক পরিকল্পনা দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে স্থিতিশীল করতে লক্ষ্য করে।

২০২২ সালে টিম কুক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর অ্যাপল যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়াবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তখন ট্রাম্প উল্লেখ করেন, টারিফ এড়াতে কোম্পানির স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন।

এর আগে, ২০২১ সালে বায়ডেন প্রশাসনের অধীনে অ্যাপল পাঁচ বছরের মধ্যে $৪৩০ বিলিয়ন দেশীয় বিনিয়োগের লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল। এই পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি নতুন পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

টেক্সাসে পূর্বে ম্যাক প্রো উৎপাদন করা হতো, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই লাইন কমে গেছে। উৎপাদন হ্রাসের পেছনে বাজারের চাহিদা পরিবর্তন ও কৌশলগত পুনর্গঠন উল্লেখ করা হয়।

অ্যাপলের চিফ অপারেটিং অফিসার সাবিহ খান কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী ম্যাক মিনি চাহিদা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নতুন কারখানা স্থানীয় চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত সক্ষমতা রাখবে।

ম্যাক মিনি অ্যাপলের মোট বিক্রয়ের একটি ছোট অংশ গঠন করে, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ পণ্য। উচ্চ মার্জিনের আইফোনের তুলনায় উৎপাদন স্থানান্তর কম জটিল।

আইফোনের মতো উচ্চ চাহিদার পণ্যের উৎপাদন স্থানীয়ভাবে চালু করা কঠিন, কারণ চীনে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত ফ্যাক্টরি ও দক্ষ কর্মশক্তি রয়েছে। ম্যাক মিনি তুলনায় ছোট স্কেল এবং কম জটিলতা স্থানীয় উৎপাদনকে সম্ভব করে।

হিউস্টন সুবিধা প্রথমে সীমিত পরিমাণে উৎপাদন শুরু করবে, ধীরে ধীরে চাহিদা অনুযায়ী বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সময়ে, এশিয়ায় উৎপাদন চালু থাকবে, যাতে বিশ্বব্যাপী বাজারের চাহিদা পূরণ হয়।

স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে হিউস্টনে সরাসরি চাকরি সৃষ্টি হবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরতা কমবে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ প্রযুক্তি পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো শিল্পের প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করবে।

তবে নতুন কারখানার জন্য দক্ষ কর্মী প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জ হতে পারে। টারিফ পরিবর্তন বা আন্তর্জাতিক সরবরাহের বিঘ্নও সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সারসংক্ষেপে, অ্যাপলের হিউস্টন প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মানের কম্পিউটার উৎপাদনের প্রথম বড় পদক্ষেপ, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তি পণ্যের উৎপাদনকে উন্মুক্ত করতে পারে।

ফক্সকন এই নতুন লাইনেও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, কারণ তার বিদ্যমান উৎপাদন সুবিধা ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক ম্যাক মিনি তৈরিতে দ্রুত স্কেল আপ করতে সহায়তা করবে। কোম্পানি ইতিমধ্যে হিউস্টনে সার্ভার সমাবেশের জন্য একই সাইট ব্যবহার করে আসছে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করেন, যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তবে অ্যাপল ভবিষ্যতে আরও উচ্চ মূল্যের পণ্য, যেমন মেকবুক বা আইপ্যাডের কিছু অংশও যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করার সম্ভাবনা

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Engadget
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments