২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, সরকারী সচিবালয়ের প্রেস রুমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ আইন শাসনের উপর আক্রমণ হিসেবে মামলা‑বাজির মাধ্যমে হয়রানির কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে কিছু মামলায় একসঙ্গে হাজার হাজার আসামি দায়ের করা হয়েছে, যা শত্রুতামূলক উদ্দেশ্য নিয়ে করা হতে পারে।
মন্ত্রীর মতে, এই ধরনের মামলায় কিছু সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তিনি জানান, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আইনি প্রক্রিয়াকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা স্বাভাবিক বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এইসব মামলাকে আলাদা করে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং অবৈধভাবে দায়ের করা মামলাগুলোকে বন্ধ করা সরকারের অগ্রাধিকার।
এছাড়াও, তিনি পূর্বে অনুমোদিত ১,২০২টি রাজনৈতিক মামলার প্রত্যাহারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যা ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল। এই মামলাগুলোতে হত্যাকাণ্ড, মাদকদ্রব্য, নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ বাদে অন্যান্য অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মন্তব্যে তিনি স্বীকার করেন, তার বিরুদ্ধেও বহু হত্যাকাণ্ডের মামলা রয়েছে এবং অস্ত্র, বিস্ফোরক সংক্রান্ত মামলাও রয়ে গেছে। তবে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলাগুলোকে যাচাই‑বাছাই করে প্রত্যাহার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করা যায়।
মন্ত্রীর মতে, এই যাচাই‑বাছাই প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে এবং কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়রানি করা হয়, তা সরাসরি আইনের শাসনের বাধা হিসেবে গণ্য হবে।
এই ঘোষণার পর, সরকারী পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এমন কোনো মামলা দায়ের হলে তা দ্রুত সনাক্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে মামলাবাজির পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য উন্মোচিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেছেন, এই পদক্ষেপটি বিরোধী দলগুলোর ওপর চাপ কমাতে এবং বিচারিক ব্যবস্থার স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে, সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
পরবর্তী ধাপে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে, যা সন্দেহজনক মামলাগুলোকে দ্রুত চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে। এই টাস্ক ফোর্সের কাজ হবে মামলাগুলোর সত্যতা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় হলে সেগুলোকে বাতিল করা।
সর্বশেষে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, আইনের শাসন পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক বিরোধকে আইনি সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার না করা দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। তিনি আশ্বাস দেন, সরকার এই দিক থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আইনগত ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।



