ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু মঙ্গলবার সকাল তেজগাঁও ভূমি ভবনে সিটিজেন কেয়ার সেন্টার ও কল সেন্টার (১৬১২২) পরিদর্শন করে পরিষেবা সংক্রান্ত জনগণের সন্দেহ ও অবিশ্বাস দূর করার প্রতিশ্রুতি জানালেন।
পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী সেন্টারের কর্মপরিবেশ, কল সেন্টারের কল ভলিউম ও গ্রাহক সেবা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন।
মিনু উল্লেখ করেন, “কল সেন্টারের ব্যাপক প্রচার চালিয়ে প্রান্তিক জনগণকে ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত না করা জরুরি। বর্তমানে সেবা প্রাপ্তির সংখ্যা ২০০‑৩০০ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ, তবে লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০০০ নাগরিককে এই সুবিধা প্রদান করা।”
এছাড়া তিনি পরিষেবা খাতে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা প্রকাশ করে জানান, “অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভূমি খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে।”
ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামালও একই সময়ে উপস্থিত ছিলেন। তিনি অভিযোগ, আপত্তি ও আপিল নিষ্পত্তির সময় কমাতে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা নিয়ে অংশীদারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
কামাল উল্লেখ করেন, “বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া চালু করে ভূমি সংক্রান্ত মামলাগুলোকে দ্রুত সমাধানের দিকে ত্বরান্বিত করা দরকার। এছাড়া আপত্তি ও আপিলের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করাও অপরিহার্য।”
দুইজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সিটিজেন কেয়ার সেন্টার ও কল সেন্টারের কার্যক্রম পর্যালোচনা করার পর সেবার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল টুলের ব্যবহার এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি বাড়ানোর জন্য একাধিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনের পর ভূমি ভবনের সভাকক্ষে সিনিয়র সচিব এ. এস. এস. সালেহ আহমেদ সভাপতিত্বে ১৬৩তম পিডি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দ্রুত প্রকল্প সম্পন্ন করার তাগিদ দেন এবং ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র, ভূমি অ্যাপ্লিকেশনকে আরও ব্যবহারবান্ধব করার নির্দেশ দেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, “ডিজিটাল সেবা সহজলভ্য করে নাগরিকের সুবিধা বাড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
এই পদক্ষেপগুলোর লক্ষ্য হল ভূমি সেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা, যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সেবা পেতে পারে।



