Universal Music Group UK-এর লন্ডন‑ভিত্তিক গ্লোব সিঙ্ক ও ব্র্যান্ড বিভাগ, সঙ্গীতকে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, ভিডিও গেম, বিজ্ঞাপন ইত্যাদিতে সংযুক্ত করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে, এখন মূলধারার সঙ্গীত‑চালিত মূল চলচ্চিত্র তৈরির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গ্লোব অরিজিনালস নামে নতুন ইউনিটের মাধ্যমে সঙ্গীতকে সৃজনশীল চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করে শিল্পীদের জন্য নতুন প্রকাশের পথ এবং আয়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
গ্লোব অরিজিনালসের প্রধান মার্ক রবারসন, লন্ডন‑ভিত্তিক দলকে যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন এবং ঐ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে হলিউডের প্রযোজক শ্যানন ম্যাকইন্টশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ম্যাকইন্টশ কুয়েন্টিন টারান্টিনোর সঙ্গে বহু প্রকল্পে কাজ করেছেন এবং তার অভিজ্ঞতা গ্লোবের সঙ্গীত‑চালিত ফিল্মের দিগন্তকে বিস্তৃত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সহযোগিতার অধীনে কয়েকটি সঙ্গীত‑চালিত ফিচার ফিল্মের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথমটি “Falling” নামে আধুনিক প্রেমের গল্প, যার লেখক ও পরিচালক ডোমিনিক সেভেজ, এবং এতে সিমোন এশলি ও স্যাম ক্ল্যাফলিন অভিনয় করবেন। গল্পটি সমসাময়িক সম্পর্কের জটিলতা ও সঙ্গীতের সংযোগকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে।
দ্বিতীয় প্রকল্প “Dusty vs Dusty”, যা ডাস্টি স্প্রিংফিল্ডের জীবনের ওপর ভিত্তি করে একটি বায়োপিকের নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করবে। এই চলচ্চিত্রে তার সঙ্গীত ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের দ্বন্দ্বকে সৃজনশীলভাবে তুলে ধরা হবে। তৃতীয়টি “Annie Oakley Hanging”, একটি সম্পূর্ণ সঙ্গীত‑চালিত চলচ্চিত্র, যা আমেরিকান ফ্রন্টিয়ারকে পটভূমি করে বিদ্রোহী প্রেমের গল্প বলে, এবং সুরের মাধ্যমে বন্য ভূমির রোমাঞ্চকে জীবন্ত করে তুলবে।
গ্লোব অরিজিনালস ইতিমধ্যে “Scientist of the Soul” শিরোনামের হ্যামনেট ছোট চলচ্চিত্র তৈরি করেছে, যেখানে সুরকার ম্যাক্স রিচ্টারের চলচ্চিত্রের যাত্রা চিত্রিত হয়েছে। এই কাজটি যুক্তরাজ্যের এভরিম্যান সিনেমা হলগুলোতে প্রধান চলচ্চিত্রের আগে প্রদর্শিত হয়েছে, যা দর্শকদেরকে সঙ্গীতের উৎপত্তি ও প্রভাব সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে।
এছাড়া গ্লোব অরিজিনালস চারটি ডকুমেন্টারি তৈরি করার পরিকল্পনা করছে, যেগুলো যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শিল্পীর সৃজনশীল প্রক্রিয়া ও ক্যারিয়ারকে তুলে ধরবে। এই ডকুমেন্টারিগুলোতে শিল্পীর সঙ্গীতের সঙ্গে ভিজ্যুয়াল গল্পের সংযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের পদচিহ্ন এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি বিশদভাবে উপস্থাপন করা হবে। বিস্তারিত তথ্য বছরের শেষের দিকে প্রকাশের কথা বলা হয়েছে।
রবারসন উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সঙ্গীত‑চালিত গল্পের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে, এবং অডিওভিজুয়াল কন্টেন্টে সঙ্গীতের প্রভাব ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। ফলে সঙ্গীতশিল্পীরা প্রচলিত অ্যালবাম ও কনসার্টের বাইরে নতুন প্রকাশের পথ খুঁজছেন, যেখানে তাদের সুরকে ভিজ্যুয়াল গল্পের সঙ্গে একত্রিত করা সম্ভব। গ্লোব অরিজিনালসের উদ্যোগ এই প্রবণতাকে সমর্থন করে শিল্পীদের জন্য অতিরিক্ত আয় ও পরিচিতি তৈরি করতে চায়।
গ্লোব অরিজিনালসের মূল লক্ষ্য হল সঙ্গীতকে চলচ্চিত্রের মূল কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করে শিল্পীদের জন্য অতিরিক্ত আয় ও পরিচিতি তৈরি করা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে “Annie Oakley Hanging” প্রকল্পকে সম্পূর্ণ সঙ্গীত‑চালিত ফিচার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা বন্য আমেরিকান ফ্রন্টিয়ারে বিদ্রোহী প্রেমের গল্পকে সুরের মাধ্যমে প্রকাশ করবে। প্রকল্পের বিবরণে বলা হয়েছে, এই চলচ্চিত্রে সঙ্গীতের ব্যবহার কাহিনীর আবেগকে তীব্র করে তুলবে এবং দর্শকের সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপন করবে।
গ্লোবের এই নতুন দিকনির্দেশনা সঙ্গীত শিল্প ও চলচ্চিত্র শিল্পের সীমানা মুছে ফেলতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও সৃজনশীল সহযোগিতা ও প্রকল্পের মাধ্যমে শিল্পীরা তাদের সঙ্গীতকে ভিজ্যুয়াল গল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারবেন, যা উভয় ক্ষেত্রের বাজারকে সমৃদ্ধ করবে।
গ্লোব অরিজিনালসের পরিকল্পনা ও প্রকল্পগুলো শিল্পের ভেতরে নতুন কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল সুযোগের দরজা খুলে দেবে, এবং সঙ্গীত‑চালিত কন্টেন্টের বাজারকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্পীরা তাদের সৃজনশীলতা নতুন মাত্রায় প্রকাশ করতে পারবে, এবং দর্শকরা সঙ্গীত ও গল্পের সংমিশ্রণে নতুন অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবে।



