ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গুলশানের টেলিটক সদর দফতরে অনুষ্ঠিত একটি মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটককে স্বল্প সময়ের মধ্যে পরিষ্কার ও মাপযোগ্য অগ্রগতি প্রদর্শনের নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর এই নির্দেশের পেছনে সরকারের দ্রুত সেবা উন্নয়নের লক্ষ্য স্পষ্ট, যাতে নাগরিকরা উন্নত টেলিকম সেবা পেতে পারেন।
সভায় মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারকে ‘জনবান্ধব’ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, টেলিটককে তার সেবা মানোন্নয়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে অবদান রাখা যায়। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, টেলিটকের উন্নয়নকে সরকারের বৃহত্তর ‘প্ল্যান ও ভিশন’ এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে হবে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদও একই সভায় উপস্থিত থেকে সরকারের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সকল সংস্থার ঐক্যবদ্ধ কাজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি জানান, মন্ত্রণালয় টেলিটকের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে, যাতে পরিকল্পিত লক্ষ্যগুলো সময়মতো অর্জিত হয়। উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করবে।
মন্ত্রীর নির্দেশে টেলিটকের বর্তমান সেবা কার্যক্রম, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের অগ্রগতি, ডিজিটাল সেবার উন্নয়ন এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। কর্মকর্তারা টেলিটকের ৪জি নেটওয়ার্কের কভারেজ বাড়ানো, গ্রামাঞ্চলে সেলুলার টাওয়ার স্থাপন এবং নতুন ডেটা প্যাকেজ চালু করার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এছাড়া গ্রাহক অভিযোগের দ্রুত সমাধান এবং কল সেন্টার সেবার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয়।
সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সকল অংশগ্রহণকারী মন্ত্রী ও উপদেষ্টার নির্দেশ অনুসরণে টেলিটকের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। সভার শেষে মন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে তা ত্বরান্বিতভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
টেলিটক, যা সরকারী মালিকানাধীন মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রদানকারী, দেশের টেলিকম সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকায় সাশ্রয়ী মোবাইল সেবা প্রদান করে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এই অপারেটরের অবদান অপরিসীম। মন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে দ্রুত অগ্রগতি দেখালে টেলিটকের সুনাম বাড়বে এবং ব্যবহারকারীর সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল উন্নয়নে সহায়তা করবে।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবা মানোন্নয়ন দ্রুত সম্পন্ন হলে দেশের মোবাইল ইন্টারনেট প্রবেশযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে ই-কমার্স, অনলাইন শিক্ষা এবং টেলিমেডিসিনের মতো সেবা গুলো আরও বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাবে। এছাড়া, স্থানীয় স্টার্টআপ এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর জন্য উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করবে।
মন্ত্রীর শেষ মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়, সরকার টেলিটকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে প্রয়োজনীয় নীতি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে, যাতে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারী টেলিকম সেবা ব্যবহারকারী জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে টেলিটকের ভূমিকা শক্তিশালী করার লক্ষ্য স্পষ্ট।



