ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে মার্কিন দূতাবাসের চ্যার্লস কুশনারকে সরাসরি ফরাসি মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুমতি আর না দেওয়া হবে। কুশনারের মন্তব্যে তিনি ফ্রান্সে “হিংস্র বামপন্থী চরমপন্থা” বাড়ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা ব্যাখ্যা না দিতে পারায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চ্যার্লস কুশনার হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনারের পিতা, এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্কের কারণে তার দায়িত্বের গুরুত্ব বাড়ে। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোত তাকে সোমবার সন্ধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করার জন্য ডেকেছিলেন।
কুশনার নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হয়ে, পূর্বে নির্ধারিত অন্য কাজের কথা উল্লেখ করে মার্কিন দূতাবাসের একজন উপদেষ্টা পাঠিয়ে দেন। এই অনুপস্থিতি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করে, কারণ এটি দূতাবাসের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়।
বারোত কুশনারের এই আচরণকে “দূতীয় মিশনের মৌলিক চাহিদা না বোঝা” বলে সমালোচনা করেন এবং সরাসরি মন্ত্রীদের সঙ্গে তার প্রবেশাধিকার বন্ধের অনুরোধ করেন। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে ভবিষ্যতে কুশনারকে কোনো ফরাসি সরকারী কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করার অনুমতি না দেওয়া হবে।
বিতর্কের মূল কারণ হল মার্কিন দূতাবাসের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্ট, যেখানে ফরাসি ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী কুয়েন্টিন ডেরাঙ্কের হত্যাকাণ্ডের পর “হিংস্র বামপন্থী চরমপন্থা” বাড়ছে বলে সতর্কতা জানানো হয়েছিল। পোস্টটি ডেরাঙ্কের পরিবারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছে।
কুয়েন্টিন ডেরাঙ্ক, ২৩ বছর বয়সী গণিতের ছাত্র, ১৪ ফেব্রুয়ারি লিয়নে মাস্কধারী তরুণদের একটি গ্যাংয়ের আক্রমণে মারাত্মক আঘাত পেয়ে হাসপাতালে মারা যান। ফরাসি কেন্দ্র-ডান পার্টির মন্ত্রীগণ এই আক্রমণকে “বামপন্থী চরমপন্থী” দায়ী করে উল্লেখ করেন।
ফরাসি সরকার বারোতের মাধ্যমে স্পষ্ট করে বলেছেন যে তারা এই ট্র্যাজেডি ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে “হিংসা” বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া থেকে ফ্রান্সকে কোনো শিক্ষা নেওয়া উচিত নয়।
বিবিধ আন্তর্জাতিক মিডিয়া, যার মধ্যে বি.বিসি নিউজও অন্তর্ভুক্ত, মার্কিন দূতাবাসের মন্তব্যের জন্য মন্তব্য চেয়েছে, তবে দূতাবাস থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়া যায়নি।
ডেরাঙ্কের হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ছয়জন সন্দেহভাজনকে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, এবং র্যাডিকাল বামপন্থী লা ফ্রাঁস আনবোয়েড (LFI) দলের একজন পার্লামেন্টারি সহকারীও সহায়তায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
LFI দলের নেতা জঁ-লুক মেলঁশঁ এই ঘটনায় দলের কোনো জড়িতি নেই বলে জোর দিয়ে বলেছেন এবং “সব ধরনের হিংসা”কে নিন্দা করেছেন। তিনি দলের নীতিগত অবস্থানকে স্পষ্ট করে তোলেন যে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে এই ধরনের অপরাধের কোনো সম্পর্ক নেই।
এই ঘটনাটি ফ্রান্স-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও তথ্য শেয়ারিং ক্ষেত্রে। ফরাসি সরকার যদি কুশনারের প্রবেশাধিকার স্থায়ীভাবে বন্ধ করে, তবে ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে, যা আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, মার্কিন দূতাবাসের মন্তব্যের ফলে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কুশনারের সরকারী প্রবেশাধিকার বন্ধের দাবি জানিয়েছে, এবং এই সিদ্ধান্ত ফরাসি-আমেরিকান কূটনৈতিক মিথস্ক্রিয়ার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



