প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান আজ ঢাকা সেক্রেটারিয়েটে ছয়টি নতুন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে এক সপ্তাহের মধ্যে শহরের সমস্যাগুলোর সমাধানমূলক কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনা শহরে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের অভাবে স্থবিরতা ও সেবা ঘাটতির সমাধানের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে প্রশাসকরা জানালেন যে, গতকাল প্রকাশিত গেজেটের মাধ্যমে ছয়টি সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়েছে। গেজেটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদগুলো পূরণ হওয়ায় শহুরে শাসনে নতুন দিকনির্দেশনা আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা সাউথ সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম উল্লেখ করেন, নির্বাচনের অনুপস্থিতি শহরের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং এখন তা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রশাসকরা শহরের অবস্থা বিশ্লেষণ করে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করবেন এবং তা মোকাবিলার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করবেন।
সালাম আরও যোগ করেন, গ্রীষ্মের ডেঙ্গু মৌসুমের পূর্বাভাসের সঙ্গে সঙ্গে মশা নিয়ন্ত্রণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মশা দমনের জন্য জাল, লার্ভিসাইড এবং পরিষ্কার পানির উৎস নির্মূলের ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা হবে।
সবুজ ও পরিষ্কার শহর গড়ে তোলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সালাম জানান, নগর সবুজায়ন, পার্কের উন্নয়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা মূল ভিত্তি হিসেবে গৃহীত হবে। তিনি বলেন, প্রশাসকরা স্থানীয় স্তরে কাজ করে সমস্যার মূলভূমি থেকে সমাধান খুঁজে বের করবেন।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক নাজরুল ইসলাম মানজু জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছয় মাসের মধ্যে শহরকে পরিষ্কার, সবুজ এবং মশামুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সময়সীমার মধ্যে বর্জ্য সংগ্রহ, রাস্তার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং গাছ রোপণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে।
প্রশাসকরা এখন থেকে সাত দিনের মধ্যে বিশদ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করে জমা দেবেন। পরিকল্পনায় স্যানিটেশন, ড্রেনেজ, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, মশা দমন এবং নগর সবুজায়নের নির্দিষ্ট পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনকে তাদের নিজস্ব সমস্যার ভিত্তিতে কাস্টমাইজড পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
সরকারের প্রত্যাশা, এই পরিকল্পনাগুলি দ্রুত বাস্তবায়ন করে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি, রোগের বিস্তার রোধ এবং নাগরিকদের জীবনমান বাড়ানো। বিশেষ করে ডেঙ্গু ও অন্যান্য ভেক্টর রোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার শহর শাসনে অধিক নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পারে এবং নির্বাচনের পূর্বে শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াতে পারে। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময়ে এই ধরনের উন্নয়নমূলক কাজগুলো রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
অপরপক্ষে, বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপকে কেন্দ্রীয় সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রশাসকরা সকল রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা শহুরে শাসনকে আধুনিকায়নের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শহরের অবকাঠামো, পরিষেবা এবং পরিবেশগত দিকগুলোকে সমন্বিতভাবে উন্নত করার লক্ষ্য স্পষ্ট।
প্রশাসকরা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা নিয়মিত অগ্রগতি রিপোর্ট করে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে উপস্থাপন করবেন।
কাজের সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অফিস জমা দেওয়া পরিকল্পনাগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করবে। এই পর্যালোচনা ভিত্তিকভাবে অতিরিক্ত নির্দেশনা বা সমর্থন প্রদান করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, নির্বাচনের অনুপস্থিতিতে স্থবির থাকা সিটি কর্পোরেশনগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার এই পদক্ষেপ শহরের পরিষেবা উন্নয়ন এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।



