ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল কোর্ট আজ দুজন প্রাক্তন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি উপাচার্যকে বিদেশে ভ্রমণ থেকে বাধা দেয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তাদের জড়িত দুর্নীতি মামলায় সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
আদেশটি মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল কোর্টের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজের হাতে গৃহীত হয়। তিনি মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেন।
এই রায়ের পেছনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (ACC) পিটিশন রয়েছে। পিটিশনটি দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-নির্দেশক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদিনের নেতৃত্বে প্রস্তুত করা হয়, যিনি বর্তমান তদন্তের প্রধান দায়িত্বে আছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন আদালতে জানায় যে, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন উপাচার্য হারুন ও রশিদ ও মশিউর রহমানকে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। উভয় ব্যক্তির ওপর আর্থিক লেনদেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
তদন্ত চলাকালে গোপন সূত্র থেকে জানা যায় যে, উভয় সন্দেহভাজন বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাই, আদালতকে মনে হয়েছে যে, তাদের ভ্রমণ সীমাবদ্ধ না করলে তদন্তের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
দুর্নীতি দমন কমিশন পিটিশনে জোর দিয়ে বলেছে যে, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া তদন্তের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করবে এবং প্রমাণ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করবে। তাই, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা একটি প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
হারুন ও রশিদ, মশিউর রহমান উভয়ই ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পূর্বে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বরাদ্দ, প্রকল্প অনুমোদন এবং বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এই রায়ের আগে, ৮ ফেব্রুয়ারি একই আদালত জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম, তার স্বামী আকতার হোসেন এবং পুত্র প্রতিক তাসদিক হোসেনের ওপরও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই মামলায়ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।
ফারজানা ইসলাম ও তার পরিবারকে একই আদালতে অভিযুক্ত করা হয়েছিল কারণ তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মে জড়িত বলে সন্দেহ করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকে আদালত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন বর্তমানে উভয় ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তে আর্থিক নথি, চুক্তিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত।
আদালত ভবিষ্যতে অতিরিক্ত শর্ত আরোপ বা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত শুনানির আয়োজন করতে পারে। সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আদালতের আদেশ মেনে চলতে হবে এবং কোনো আপিলের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে আদালত ও দুর্নীতি দমন কমিশন উভয়ই নিশ্চিত করতে চায় যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা তদন্তের সময়সীমা অতিক্রম না করে পালিয়ে না যায়, ফলে ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে।



