চট্টগ্রামের হালিশহর ও কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার গ্যাস লিকেজ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডের পরিণতি পর্যবেক্ষণ করতে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু现场 উপস্থিত হন। তিনি দগ্ধদের অবস্থা দেখার পর তিনটি মন্ত্রণালয়—শিল্প, স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ—একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেন, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা কমে।
মন্ত্রীর মন্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে যে গ্যাস লিকেজ সংক্রান্ত ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষত পুরনো সিলিন্ডার ব্যবহারের ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া বা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঘটিত অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা গত বছর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে ত্রাণমন্ত্রক, শিল্প মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে তিনি জোর দেন।
সমন্বিত কাজের মূলধারা হিসেবে তিনটি মন্ত্রণালয় একটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গঠন করবে। এই ব্যবস্থার অধীনে গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপত্তা পরীক্ষা, মেয়াদোত্তীর্ণ বা অব্যবহৃত সিলিন্ডারের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, এবং গ্যাস সরবরাহের মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। তদুপরি, গ্যাস সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোকে প্রত্যেক সিলিন্ডারের উৎপাদন তারিখ ও ব্যবহারিক মেয়াদ স্পষ্টভাবে লেবেল করতে নির্দেশ দেওয়া হবে, যাতে ব্যবহারকারী সহজে যাচাই করতে পারে।
প্রতিটি সিলিন্ডারের নিরাপত্তা পরীক্ষা মাসিক ভিত্তিতে চালু করা হবে এবং ফলাফল সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে রিপোর্ট করা হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারগুলোকে সংগ্রহ করে নিরাপদ স্থানে ধ্বংস করা হবে, অথবা পুনর্ব্যবহারযোগ্য অংশ আলাদা করা হবে। এছাড়াও, গ্যাস লিকেজ সনাক্তকরণের জন্য আধুনিক সনাক্তকরণ যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কোনো লিকেজ ঘটলে তা দ্রুত শনাক্ত করে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গ্যাস ব্যবহারকারী জনগণকে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও তথ্যবহুল প্রচারাভিযান চালু করা হবে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে গ্যাস বিষক্রিয়া ও অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে জনসাধারণকে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হবে। তদুপরি, গ্যাস সরবরাহ চেইনের সব স্তরে নিরাপত্তা মানদণ্ডের অনুসরণ নিশ্চিত করতে ত্রাণমন্ত্রক একটি ত্রৈমাসিক অডিট ব্যবস্থা প্রবর্তন করবে।
আগের দিন, অর্থাৎ সোমবার ভোরে চট্টগ্রাম হালিশহর থানার ওয়াপদা মোড়ে গ্যাস সিলিন্ডার ফাটিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়, যার ফলে শিশুসহ নয়জন দগ্ধ হন, দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনাস্থলে দ্রুততর অগ্নি নির্বাপন ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়, তবে গ্যাসের তীব্র গন্ধ ও ধোঁয়া দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এলাকায় রয়ে যায়। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ গ্যাস লিকেজের সম্ভাব্য উৎসগুলো দ্রুত সনাক্ত করে, তবে ত্রাণমন্ত্রকের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিস্তৃত সমন্বয় প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ পায়।
এই ঘটনার পর সরকারী দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে ত্বরিত পদক্ষেপের দাবি বেড়েছে, এবং বিরোধী দলগুলোও গ্যাস নিরাপত্তা নীতি বাস্তবায়নে ত্বরান্বিত মনোযোগের আহ্বান জানিয়েছে। কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, গ্যাস নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি প্রয়োগে প্রশাসনিক অদক্ষতা ও দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা পূর্বে ঘটিত দুর্ঘটনাগুলোর মূল কারণ। তাই, ত্রাণমন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে, তা না হলে রাজনৈতিক বিরোধিতা তীব্র হতে পারে।
ত্রাণমন্ত্রক জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সম্পদ ও সমর্থন সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে, এবং গ্যাস সরবরাহ চেইনের সব স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তদারকি করবে। এছাড়া, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা ও রিটেইলারদের জন্য লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া কঠোর করা হবে, যাতে অবৈধ বা মানহীন পণ্য বাজারে প্রবেশ না করতে পারে। সরকার এই নীতিগুলোকে আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা ভবিষ্যতে গ্যাস লিকেজ ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণজনিত মানবিক ক্ষতি কমিয়ে, জনসাধারণের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে গ্যাস লিকেজ ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণজনিত মানবিক ক্ষতি কমিয়ে, জনসাধারণের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা লক্ষ্য। সরকার আশা করে, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, কঠোর মানদণ্ড ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি একত্রে গ্যাস সংক্রান্ত দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।



