লিন রামসাই, বাফ্টা জয়ী গ্লাসগো ভিত্তিক লেখক‑নির্দেশক, গ্লাসগো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিনেমা সিটি সম্মাননা পাবেন। অনুষ্ঠান ৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে, গ্লাসগোর শিল্পী আদুরা অনাশিলের নেতৃত্বে “ফ্রম পেজ টু পাল্স” শিরোনামের আলাপ‑আলোচনার অংশ হিসেবে।
এই সম্মাননা গ্লাসগো ফেস্টিভ্যালের বার্ষিক ইন্ডাস্ট্রি ফোকাস প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত। রামসাইকে তার অনন্য অভিযোজন পদ্ধতি নিয়ে গভীর আলোচনা করার সুযোগ দেওয়া হবে, যা আয়োজকরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।
রামসাই ১৯৯৯ সালে গ্লাসগোতে শ্যুট করা “র্যাটক্যাচার” দিয়ে বৈশ্বিক মঞ্চে প্রবেশ করেন। এই প্রথম ফিচার ফিল্মটি বাফ্টা আউটস্ট্যান্ডিং ডেবিউ পুরস্কার জিতে, তার ক্যারিয়ারের ভিত্তি স্থাপন করে।
ত্রিশ বছরের বেশি সময়ে রামসাই তার স্বতন্ত্র ভিজ্যুয়াল শৈলী এবং শক্তিশালী গল্প বলার ক্ষমতার জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। হলিউডে তিনি “উই নিড টু টক অ্যাবাউট কেভিন”, “ডাই মাই লাভ”, “ইউ ওয়ার নেভার রিয়ালি হিয়ার” ইত্যাদি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন।
২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সিনেমা সিটি সম্মাননা, গ্লাসগোর সোনালী সিনেমা ঐতিহ্যকে স্মরণ করে, চলচ্চিত্র শিল্পে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মানিত করে। ১৯৩০‑এর দশকে গ্লাসগো প্রতি মানুষের জন্য সর্বাধিক সিনেমা ঘর ছিল, তাই শহরটি “সিনেমা সিটি” নামে পরিচিত হয়।
এখন পর্যন্ত এই সম্মাননা পেয়েছেন ভিগো মর্টেনসেন এবং গ্লাসগোর হলিউড তারকা জেমস ম্যাকঅয়। রামসাইকে এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় যুক্ত করা গ্লাসগো ফেস্টিভ্যালের জন্য গর্বের বিষয়।
গ্লাসগো ফেস্টিভ্যালের প্রোগ্রাম প্রধান পল গ্যালাহার রামসাইকে এমন একজন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি মনের ভেতরে থাকা স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি স্ক্রিনে সঠিকভাবে রূপান্তর করতে সক্ষম। তার কাজগুলো সিনেমার সম্ভাবনা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করেছে।
ইন্ডাস্ট্রি ম্যানেজার সামান্থা বেনেট রামসাইকে গ্লাসগোর নিজস্ব প্রতিভা হিসেবে স্বাগত জানিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রামসাইয়ের অংশগ্রহণ ইন্ডাস্ট্রি ফোকাস প্রোগ্রামের মানকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে।
রামসাইয়ের সম্মাননা গ্রহণের পাশাপাশি গ্লাসগো ফেস্টিভ্যালে ২০২৬ সালের অন্যান্য আন্তর্জাতিক তারকা ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। এই বৈচিত্র্যময় তালিকা ফেস্টিভ্যালের বৈশ্বিক আকর্ষণ বাড়াবে।
গ্লাসগোর চলচ্চিত্র পরিবেশের সমৃদ্ধি এবং রামসাইয়ের মতো স্থানীয় প্রতিভার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, শহরের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে শক্তিশালী করে। এই ধরনের ইভেন্ট স্থানীয় শিল্পী ও তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
গ্লাসগো ফেস্টিভ্যালের আয়োজকরা রামসাইকে সম্মানিত করার মাধ্যমে গ্লাসগোর চলচ্চিত্র ঐতিহ্যকে পুনরায় জোরদার করতে চায়। তিনি যে চলচ্চিত্রগুলো তৈরি করেছেন, সেগুলো শহরের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে।
রামসাইয়ের সম্মাননা অনুষ্ঠান গ্লাসগোর চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। দর্শক ও শিল্প পেশাজীবীরা এই বিশেষ সন্ধ্যায় তার সৃজনশীলতা ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নতুন কিছু শিখতে পারবেন।



