ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি—নতুন সরকার গৃহীত হওয়ার পর নগদে বিদেশি বিনিয়োগের নীতি এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে জামায়াত-এ-ইসলামির সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গভর্নর সভার শেষে উল্লেখ করেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আরমান এই মন্তব্যের পর সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি ঢাকা থেকে নির্বাচিত একটি আসনের প্রতিনিধি।
৮ ফেব্রুয়ারি আরমানের লিখিত আবেদনপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরীক্ষা চালানোর অনুমতি চাওয়া হয়। আবেদনপত্রে উল্লেখ আছে, পূর্বে অন্তর্বর্তী সরকার নগদে বেসরকারি বিনিয়োগের অনুমতি দিতে ইচ্ছুক ছিল।
আরমানের মতে, বহু বিদেশি সংস্থা নগদে বিনিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তিনি নিজে আইনজীবী হিসেবে এই বিনিয়োগকারীদের স্থানীয় সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন এবং তিনটি মহাদেশে তাদের বিদ্যমান বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেছেন।
বিনিয়োগকারীদের পরিচয় প্রকাশ না করলেও, আরমান জানান, তারা বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত এবং তার আইনি সহায়তা গ্রহণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, বড় কোম্পানির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা এবং উদ্যোক্তা পরিবারের পটভূমি এই ভূমিকা নিশ্চিত করেছে।
সংসদ সদস্য হিসেবে বহুজাতিক সংস্থার পক্ষে ওকালতি করা নিয়ে স্বার্থসংঘাতের প্রশ্ন উঠলেও, আরমান স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করছেন না এবং তার কাজ সম্পূর্ণভাবে জনগণের সেবা হিসেবে বিবেচিত।
সভা শেষে আরমান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো বিধিনিষেধের মুখোমুখি হননি এবং বর্তমান সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সক্রিয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের জন্য এই ধরনের বিনিয়োগের বিকল্প কম।
বিশ্লেষকরা দেখছেন, নগদে বিদেশি বিনিয়োগের অনুমোদন যদি স্পষ্ট নীতি দিয়ে নিশ্চিত করা হয়, তবে মূলধন প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আশা করা যায়। বিশেষ করে অবকাঠামো, উৎপাদন ও প্রযুক্তি সেক্টরে নতুন প্রকল্পের সম্ভাবনা বাড়বে।
তবে নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং নগদ লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সরকারকে দ্রুত নিয়মাবলী প্রকাশ করে, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে, এবং আন্তর্জাতিক মানের অডিট প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে হবে।
সামগ্রিকভাবে, আরমানের উদ্যোগ এবং গভর্নরের ইতিবাচক সাড়া দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক সিগন্যাল পাঠাচ্ছে। যদি নতুন সরকার দ্রুত নীতি নির্ধারণ করে, তবে বিদেশি মূলধনের প্রবাহ বাড়ে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এবং মুদ্রা সঙ্কট কমাতে সহায়ক হবে।
টেকঅ্যাওয়ে: নগদে বিদেশি বিনিয়োগের অনুমোদন স্পষ্ট নীতিমালা, স্বচ্ছ অডিট এবং আইনি কাঠামোর উপর নির্ভরশীল; সঠিক বাস্তবায়ন হলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষত রপ্তানি-ভিত্তিক শিল্প, জ্বালানি ও টেলিকম সেক্টরে নগদ বিনিয়োগের চাহিদা বেশি, কারণ এই ক্ষেত্রগুলোতে দ্রুত মূলধন প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি এবং কর সুবিধা চায়, যা সরকার যদি প্রদান করে, তবে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করা সম্ভব।
অন্যদিকে, নগদ লেনদেনের ওপর নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি আর্থিক অপরাধের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংককে সুপারিশ করা হচ্ছে, নগদ লেনদেনের সীমা নির্ধারণ, রিয়েল-টাইম রিপোর্টিং এবং আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে।



