মন্ত্রিপরিষদ গৃহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৭ বছরের পূর্ব শাসনের সময় বিরোধী নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১,২০২টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি গৃহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল হাসান স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যভিত্তিক এবং বিরোধী গোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় দাবি করে যে, মামলাগুলোকে পুনরায় পর্যালোচনা করে তাদের রাজনৈতিক স্বভাব নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সুতরাং সেগুলোকে বাতিল করা উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা হয়েছে।
এটি একাধিক ধাপের পরবর্তী পদক্ষেপ, কারণ একই দিনে মন্ত্রণালয় পূর্বে ১,০০৬টি অনুরূপ মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছিল। উভয় সিদ্ধান্তই পূর্ব শাসনের ১৭ বছরব্যাপী দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক প্রেরণার ভিত্তিতে চিহ্নিতগুলোকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকার পূর্ব শাসনকে “ফ্যাসিস্ট” হিসেবে বর্ণনা করে এবং তার শাসনকালে বিরোধী গোষ্ঠীর ওপর আইনি চাপ বাড়ানোর অভিযোগ তুলে এসেছে। এই প্রসঙ্গে, রাজনৈতিক ভিত্তিক মামলাগুলোকে বাদ দেওয়া একটি বৃহত্তর নীতি হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে, যা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রত্যাহার প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য একটি স্বতন্ত্র কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। কমিটি মামলাগুলোর মূল দায়ের নথি, সাক্ষ্য এবং সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা বিশ্লেষণ করে তাদের রাজনৈতিক স্বভাব নির্ধারণ করেছে। এরপর মন্ত্রণালয়কে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে, যা এখন অনুমোদিত হয়েছে।
বিরোধী দলের নেতারা এই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘদিনের আইনি দমন থেকে মুক্তির সূচনা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছে যে, এই পদক্ষেপটি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যের প্রতিফলন। একই সঙ্গে, তারা ভবিষ্যতে অবশিষ্ট রাজনৈতিক ভিত্তিক মামলাগুলোর সমানভাবে সমাধান প্রত্যাশা করছেন।
সরকারি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ধরনের মামলাকে বাতিল করা দেশের আইনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং রাজনৈতিক বিরোধকে আইনি সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করবে। মন্ত্রণালয় জোর দিয়েছে যে, আইন প্রয়োগে কোনো পক্ষপাতিত্ব না রেখে সকল নাগরিকের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
আইনি দিক থেকে, প্রত্যাহারকৃত মামলাগুলো সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিলের আদেশ জারি করা হবে। আদালতগুলোকে এই মামলাগুলো পুনরায় খোলার কোনো সুযোগ থাকবে না, ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ওপর আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, এই পদক্ষেপটি আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক পরিবেশকে শীতল করতে সহায়তা করবে। বিরোধী দল ও শাসক দল উভয়েরই এই ধরনের আইনি স্বস্তি থেকে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও স্বচ্ছ করে তুলবে।
অন্যদিকে, কিছু সমালোচক সতর্কতা প্রকাশ করেছেন যে, মামলাগুলোর নির্বাচনকালে একতরফা প্রত্যাহার করা রাজনৈতিক স্বার্থে প্রভাব ফেলতে পারে। তারা দাবি করছেন যে, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত এই ধরনের পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত বলা কঠিন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, অবশিষ্ট রাজনৈতিক ভিত্তিক মামলাগুলোর পর্যালোচনা কাজ অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনীয় হলে অতিরিক্ত প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হবে। এই প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে একটি সমগ্র প্রতিবেদন সরকারকে উপস্থাপন করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আইনি ব্যবস্থার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
সারসংক্ষেপে, গৃহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই নতুন অনুমোদন পূর্ব শাসনের সময় দায়ের করা রাজনৈতিক ভিত্তিক মামলাগুলোর একটি বড় অংশকে শেষের দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। এটি দেশের আইনি সংস্কার ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



