২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দফতরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং দেশের ছয়টি সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসকরা একত্রিত হন। এ সাক্ষাৎটি নতুন প্রশাসকদের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সরকারি সমন্বয় সভা হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসকদের কাজের দিকনির্দেশনা জানানো এবং মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নবনিযুক্ত প্রশাসকদের স্বাগত জানিয়ে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা প্রদান করেন। তিনি বিশেষভাবে সততা, স্বচ্ছতা এবং জনবান্ধব সেবার ওপর জোর দেন, যা শহুরে পরিষেবার মানোন্নয়নে মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া তিনি প্রশাসকদেরকে আইনগত কাঠামোর মধ্যে কাজ করার এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রশাসকগণ মন্ত্রণালয়ের সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়ে জানান যে, তাদের দায়িত্ব পালনকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক সহায়তা প্রয়োজন হবে। তারা উল্লেখ করেন যে, শহরের পরিষেবা উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ের নীতি ও নির্দেশনা অপরিহার্য। এ ধরনের পারস্পরিক সমঝোতা শহর পরিচালনায় কার্যকরী ফলাফল আনবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়।
এই সাক্ষাৎকারের পূর্বে, ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি কর্পোরেশন-১ শাখা থেকে ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই পদক্ষেপটি শহুরে পরিষেবার কার্যকারিতা বাড়ানোর এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মো. শফিকুল ইসলাম খান, খুলনা সিটি কর্পোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি কর্পোরেশনে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকারকে নতুন প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকাটি সরকারী নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে এবং সকল সংশ্লিষ্ট শহরের প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন দিকনির্দেশনা আনবে।
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ শহরের বিশেষ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে দ্রুত নগরায়ণ, ট্রাফিক জ্যাম এবং জনসেবা সরবরাহের সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য নতুন নীতি প্রণয়ন করা হবে। একইভাবে, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা খাতে অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই প্রথম সাক্ষাৎটি প্রশাসকদের জন্য মন্ত্রণালয়ের নীতি ও দিকনির্দেশনা সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি করেছে। মন্ত্রীর জোরালো সমর্থন ও নির্দেশনা প্রশাসকদেরকে তাদের দায়িত্ব পালনে আত্মবিশ্বাস প্রদান করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় শহরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভবিষ্যতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিস এবং সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনগুলির মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় সভা চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধরনের কাঠামোগত যোগাযোগের মাধ্যমে নীতি বাস্তবায়ন দ্রুততর হবে এবং নাগরিকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা প্রদান সম্ভব হবে। প্রশাসকগণও মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় তাদের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে শীঘ্রই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সারসংক্ষেপে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ছয়টি সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসকদের মধ্যে এই প্রথম বৈঠকটি শহুরে প্রশাসনের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ সহযোগিতা এবং প্রশাসকদের সক্রিয় দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে শহর পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং নাগরিক সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



