চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় সকাল ৪:১৫ টায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে বিস্ফোরণ ঘটার পর তৃতীয় শিকারী আজ দুপুরে মারা গেছেন। বিস্ফোরণটি একাধিক পরিবারের বাসস্থানে আঘাত হানায়, ফলে মোট তিনজনের মৃত্যু এবং ছয়জনের গুরুতর আঘাত নিশ্চিত হয়েছে। মৃতদের মধ্যে সামির আহমেদ সুমন, ৪০ বছর বয়সী, এবং শাওন, ১৬ বছর বয়সী, অন্তর্ভুক্ত।
সামির আহমেদ সুমনকে আজ দুপুর ১২টায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যুবরণ করতে দেখা যায়। শাওন বিন রহমান, যিনি ওই প্রতিষ্ঠানে সার্জন, জানিয়েছেন সুমনের দেহে ৪০ শতাংশ দাহ এবং শ্বাসনালীর ক্ষতি হয়েছে। চিকিৎসা দলের মতে, দাহের পরিমাণ এবং শ্বাসনালীর আঘাতের কারণে রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটেছিল।
শাওন, ১৬ বছর বয়সী, ইতিমধ্যে গতকাল সকাল ৭ টায় মৃত্যুবরণ করেছিল। তিনি গত সন্ধ্যায় জীবন রক্ষার যন্ত্রে সংযুক্ত ছিলেন, তবে তার অবস্থা ভোরে আরও খারাপ হয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তার প্রাণ শেষ হয়ে যায়। শাওনের চাচা, মো. জামশেদ, পরিবারের সঙ্গে এই তথ্য শেয়ার করেন।
শাওনের সঙ্গে তার মা, নূর জাহান বেগম রানি, ৪০ বছর বয়সী,ও একই দিনে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে রেফার করা হয়েছিলেন, তবে ঢাকা যাওয়ার পথে মারা যান। রানি ৪৫ শতাংশ দাহের শিকার ছিলেন এবং তার দেহের ক্ষতি দ্রুত বাড়ে। তার দেহকে মিস্ত্রি পাড়া, আগ্রাবাদে পিতৃ পরিবারের কবরস্থানে রাত ২ টায় সমাহিত করা হয়।
শাওন এবং তার পরিবারের মোট নয়জন সদস্য ভোরের বিস্ফোরণে আহত হন। দাহের পরিমাণ ২৫ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে পরিবর্তিত হয়েছে। শাওন এবং তার মা ছাড়াও আটজনের দেহে বিভিন্ন মাত্রার দাহ দেখা গেছে, যার মধ্যে পাঁচজনের দাহ ৫০ শতাংশের বেশি। বর্তমানে ছয়জন রোগী ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
বিস্ফোরণের সময় পরিবারের সদস্যরা ঘুমের মধ্যে ছিলেন। হঠাৎ শোরগোলের সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, ফলে পুরো অ্যাপার্টমেন্টে অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নি নির্বাপনকারী পাঁচটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, এবং প্রায় ৫:৩০ টায় অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তবে দাহের তীব্রতা এবং ধোঁয়ার কারণে অনেক রোগী শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।
শাওনের দেহকে তার পরিবারের গ্রাম বাড়ি, কুমিল্লার বারুয়া গ্রামে নিয়ে গিয়ে সমাধি করা হবে। পরিবারটি শোক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি দাবি করছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ রোগীদের জন্য বিশেষ মনিটরিং সেবা চালু করেছে এবং দাহজনিত জটিলতা কমাতে ত্বরিত চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা দাহের শিকার রোগীদের জন্য শ্বাসনালী রক্ষণাবেক্ষণ এবং ত্বকের সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
বিস্ফোরণটি স্থানীয় সম্প্রদায়কে শোকের মধ্যে ফেলেছে, তবে একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।



