জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেট প্রণয়নে সহায়তা করার জন্য চারজন কর্মকর্তাকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করেছে। এ সিদ্ধান্ত ২৩ ফেব্রুয়ারি, সোমবার, বোর্ডের প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে এবং যথাযথ অনুমোদনের পরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
অফিস আদেশে দ্বিতীয় সচিব (বোর্ড প্রশাসন-১) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষর করেছেন। তিনি আদেশে চারজন কর্মকর্তার মধ্যে একজনকে ‘প্রধান বাজেট সমন্বয়কারী’ এবং বাকি তিনজনকে ‘বাজেট সমন্বয়কারী’ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এই নতুন দায়িত্বগুলো তাদের বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্তভাবে পালন করতে হবে।
প্রধান বাজেট সমন্বয়কারী হিসেবে প্রথম সচিব (কাস্টমস‑অটোমেশন) এস. এম. শামসুজ্জামানকে নির্ধারিত করা হয়েছে। শামসুজ্জামান পূর্বে কাস্টমস অটোমেশন বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন এবং এখন তিনি বাজেটের সামগ্রিক সমন্বয় ও তদারকি করবেন।
বাজেট সমন্বয়কারী পদে নিযুক্ত তিনজন কর্মকর্তার মধ্যে দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস‑ক্লাসিফিকেশন অ্যান্ড অ্যাডভান্স রুলিং) তানভীর আহমেদ, দ্বিতীয় সচিব (মূসক বিচার ও আপিল) মো. মেহবুব হক এবং দ্বিতীয় সচিব (কর অব্যাহতি) তৌহিদুর রহমান অন্তর্ভুক্ত। প্রত্যেকের নিজস্ব বিভাগে অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তারা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বাজেট প্রস্তাবনা ও বাস্তবায়নে সমন্বয় কাজ করবেন।
বাজেট সমন্বয়কারীর নতুন কাঠামো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বাজেট প্রক্রিয়াকে দ্রুততর ও স্বচ্ছ করতে লক্ষ্য রাখে। বিভাগীয় তথ্যের একত্রিকরণ ও বিশ্লেষণ একক কেন্দ্রে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় বাজেটের খসড়া প্রস্তুতিতে সময়সীমা কমে আসবে বলে আশা করা যায়।
এছাড়া, বাজেট সমন্বয়কারীর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা আর্থিক নীতি ও কর সংগ্রহের লক্ষ্যকে বাস্তবিকভাবে সংযুক্ত করতে সক্ষম হবেন। ফলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ দ্রুত গৃহীত হতে পারে।
বিভিন্ন বিভাগ থেকে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় একাধিক স্তরের অনুমোদন ও পুনরাবৃত্তি কমে যাবে, যা বাজেটের গুণগত মান বাড়াবে। বিশেষত কাস্টমস‑ক্লাসিফিকেশন ও কর অব্যাহতি সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বাজেটের সময়মতো প্রকাশ ও স্পষ্টতা বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়ায়। যখন রাজস্ব সংগ্রহের পরিকল্পনা সুসংগঠিত হয়, তখন সরকারি প্রকল্প ও অবকাঠামো বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের প্রবাহ স্থিতিশীল থাকে।
অধিকন্তু, বাজেট সমন্বয়কারীর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ব্যবহার করে কর নীতি সংশোধন ও নতুন কর সংগ্রহের সুযোগ সনাক্ত করা সম্ভব হবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব বৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই পদক্ষেপটি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা কাঠামোকে আধুনিকায়ন করার একটি ধাপ হিসেবে দেখা যায়। ভবিষ্যতে আর্থিক পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়নে আরও বেশি বিভাগীয় সমন্বয় ও প্রযুক্তিগত সহায়তা যুক্ত হতে পারে।
অবিলম্বে কার্যকর হওয়া আদেশের ফলে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে তাদের কাজ শুরু করেছেন। তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সমন্বয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় মিটিং ও কর্মপরিকল্পনা চালু করেছেন।
সারসংক্ষেপে, চারজন কর্মকর্তাকে বাজেট সমন্বয়কারীর দায়িত্ব প্রদান করা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বাজেট প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত, স্বচ্ছ এবং ফলপ্রসূ করার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এই কাঠামো রাজস্ব সংগ্রহের দক্ষতা বাড়িয়ে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



